এক পরিবারের চার লাশ, গণপিটুনিতে নিহত সন্দেহভাজন ঘাতক
লক্ষ্মীপুরের রায়পুরে এক হৃদয়বিদারক ও নৃশংস হত্যাকাণ্ডে মা ও তিন মেয়ের মৃত্যু হয়েছে। ধারালো অস্ত্রের আঘাতে নিহত হয়েছেন শাহিনুর বেগম (৩৮), তার বড় মেয়ে আদমজী ক্যান্টনমেন্ট কলেজের বায়োলজি বিভাগের শিক্ষার্থী সায়মা আক্তার (২১), মেঝো মেয়ে ইকরা আক্তার (১৭) এবং ছোট মেয়ে শিফা আক্তার (৯)। এ ঘটনায় গণপিটুনিতে নিহত হয়েছেন সন্দেহভাজন ঘাতক অন্তর মজুমদার নামের এক যুবক। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে গিয়ে আহত হয়েছেন পুলিশের অন্তত সাত সদস্য।
বৃহস্পতিবার সকালে রায়পুর পৌরসভার ৩ নম্বর ওয়ার্ডের গোডাউন রোড এলাকার একটি ভাড়া বাসায় (আমির হোসেন মাস্টারের বাসা) এ মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে।
আরও পড়ুন: প্রধানমন্ত্রীর পরিবারের সদস্য ও দুই কর্মকর্তার নামে ভুয়া ফেসবুক আইডি, গ্রেপ্তার ১
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, ২০১৯ সালে নিহত শাহিনুরের স্বামী মো. কামাল বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে মারা যান। এর পর তিন মেয়ে ও ছেলে সিফাত হোসেনকে নিয়ে ওই বাসায় বসবাস করছিলেন শাহিনুর বেগম। বৃহস্পতিবার সকালে বাসার ভেতরে ঢুকে দুর্বৃত্তরা ধারালো অস্ত্র দিয়ে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে হামলা চালায়। এতে ঘটনাস্থলেই শাহিনুর, তার বড় মেয়ে সায়মা এবং ছোট মেয়ে শিফার মৃত্যু হয়।
গুরুতর আহত অবস্থায় উদ্ধার করা হয় মেঝো মেয়ে ইকরা আক্তারকে। প্রথমে তাকে রায়পুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এবং পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় পাঠানো হয়। তবে ঢাকায় নেওয়ার পথেই তার মৃত্যু হয়।
আরও পড়ুন: প্রধানমন্ত্রীর সহকারী একান্ত সচিব পরিচয়ে প্রতারণা, গ্রেপ্তার ১
ঘটনার পরপরই স্থানীয়রা সন্দেহভাজন ঘাতক অন্তরকে আটক করে গণপিটুনি দেয়। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে লক্ষ্মীপুর সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, হত্যাকাণ্ডের খবর ছড়িয়ে পড়লে এলাকায় তীব্র উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। এ সময় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে গেলে বিক্ষুব্ধ জনতার ছোড়া ইটপাটকেলে পুলিশের অন্তত ৬ থেকে ৭ সদস্য আহত হন।
ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন লক্ষ্মীপুরের পুলিশ সুপার আবু তারেক। তিনি বলেন, ঘটনাটি অত্যন্ত মর্মান্তিক। হত্যাকাণ্ডের কারণ উদঘাটনে পুলিশ কাজ করছে। সন্দেহভাজন ঘাতক অন্তর মজুমদার গত দেড় বছর ধরে স্ত্রীকে নিয়ে একই বাসায় ভাড়া থাকতেন। কিন্তু ৬/৭ মাস পূর্বে এই বাসা ছাড়েন তিনি। স্থানীয় রাণী বেগম নামে এক প্রত্যক্ষদর্শী তাকে দেখেই আসার কারণ জিজ্ঞাসা করলে তিনি পানির লাইন ঠিক করতে এসেছেন বলে জানান।
রায়পুর উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. বাহারুল আলম জানান, হাসপাতালে আনা পাঁচজনের মধ্যে মা ও দুই মেয়েকে মৃত ঘোষণা করা হয়। পরে গুরুতর আহত ইকরাকে ঢাকায় পাঠানো হলেও পথে তার মৃত্যু হয়।
এদিকে, ভাগ্যের নির্মম পরিহাসে বেঁচে গেলেন পরিবারের একমাত্র ছেলে সিফাত। প্রতিদিনের মতো বৃহস্পতিবার সকালেও তিনি কাজে বের হয়ে যান। আর সেই সময়েই ঘাতকের হামলায় প্রাণ হারান তার মা ও তিন বোন। কয়েক ঘণ্টা পর বাড়িতে ফিরে তিনি দেখতে পান চার স্বজনের নিথর দেহ। মুহূর্তেই নিঃস্ব হয়ে যায় তার পরিবার। রায়পুর বণিক সমিতির সভাপতি সাইফুল ইসলাম মুরাদের ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে কর্মরত সিফাত এখন পরিবার হারানোর অসহনীয় শোক বয়ে বেড়াচ্ছেন।





