৯ আর্থিক প্রতিষ্ঠান বন্ধের সিদ্ধান্ত
ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে ব্যাপক অনিয়ম-দুর্নীতির শিকার নয়টি ব্যাংকবহির্ভূত আর্থিক প্রতিষ্ঠান (এনবিএফআই) বন্ধের সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। দীর্ঘদিন ধরে এসব প্রতিষ্ঠানে লুটপাট ও দুর্বল ব্যবস্থাপনার কারণে গ্রাহকের টাকা ফেরত দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না।
বাংলাদেশ ব্যাংকের এক গোপন প্রতিবেদনে জানা গেছে, বর্তমানে দেশের দুর্বল ২০টি নন-ব্যাংক আর্থিক প্রতিষ্ঠানে আটকে আছে ১৬ হাজার ৩৬৭ কোটি টাকার প্রাতিষ্ঠানিক আমানত। এর মধ্যে অতি দুর্বল ৯টি প্রতিষ্ঠান বন্ধের প্রাথমিক সিদ্ধান্ত হয়েছে।
আরও পড়ুন: এক দশকে ১.৪ কোটি তরুণ শ্রমবাজারে, চাকরি পেয়েছে মাত্র ৮৭ লাখ: বিশ্বব্যাংকের সতর্কবার্তা
শুধু ব্যক্তির নয়, বড় বড় প্রাতিষ্ঠানিক আমানতও আটকে আছে এসব প্রতিষ্ঠানে। একীভূত হতে যাওয়া পাঁচ ব্যাংকের কাছেই বিভিন্ন ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের ৩৭ হাজার কোটি টাকার স্থায়ী আমানত (এফডিআর) রয়েছে। এর বাইরে আরও দুর্বল ব্যাংকের কাছেও বিপুল অঙ্কের টাকা আটকে আছে, যা ফেরত দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না।
বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংকের কাছে ১০ হাজার ১৮৫ কোটি, ইউনিয়ন ব্যাংকের কাছে ৮ হাজার ৬৩১ কোটি, এক্সিম ব্যাংকের কাছে ৮ হাজার ১৫৭ কোটি, সোস্যাল ইসলামী ব্যাংকের কাছে ৫ হাজার ৭৯১ কোটি এবং গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংকের কাছে ৪ হাজার ৫৬৮ কোটি টাকার প্রাতিষ্ঠানিক আমানত রয়েছে।
আরও পড়ুন: রপ্তানিকারকদের জন্য নতুন সুবিধা দিলো বাংলাদেশ ব্যাংক
এদিকে, প্রাথমিকভাবে বন্ধ হতে যাওয়া নয়টি আর্থিক প্রতিষ্ঠান হলো- এফএএস ফাইন্যান্স, ফারইস্ট ফাইন্যান্স, বিআইএফসি, ইন্টারন্যাশনাল লিজিং, পিপলস লিজিং, আভিভা ফাইন্যান্স, প্রিমিয়ার লিজিং, জিএসপি ফাইন্যান্স, প্রাইম ফাইন্যান্স।
এসব প্রতিষ্ঠানের খেলাপি ঋণের হার ৭৫ থেকে ৯৯ শতাংশ পর্যন্ত। বাংলাদেশ ব্যাংকের মতে, আমানত ফেরত দিতে ব্যর্থতা, উচ্চ খেলাপি ঋণ ও মূলধন ঘাটতির ভিত্তিতে প্রতিষ্ঠানগুলোকে চিহ্নিত করা হয়েছে। এসব প্রতিষ্ঠান অবসায়নে সরকারের ৯ হাজার কোটি টাকা লোকসানের আশঙ্কা রয়েছে।
সোস্যাল ইসলামী ব্যাংকের সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক শফিকুর রহমান বলেন, “উচ্চ সুদের প্রলোভন ও রাজনৈতিক প্রভাবের কারণে দুর্বল ব্যাংকগুলোতে এফডিআর রাখা হয়েছিল। এটি এখন পুরো খাতের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ।”
বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান বলেন, “কোনো প্রতিষ্ঠান কোথায় টাকা রাখবে, সেটা তাদের নিজস্ব ব্যবসায়িক নীতি। কিন্তু মূল সমস্যা হলো দুর্নীতি। দুর্নীতি বন্ধ না হলে এসব সংকটের সমাধান হবে না।”
বিশ্লেষকরা বলছেন, রাজনৈতিক প্রভাব ও কমিশন বাণিজ্যের কারণে এফডিআর নীতিমালা কঠোর না হওয়ায় এই খাত গভীর সংকটে পড়েছে। এখনই পদক্ষেপ না নিলে আর্থিক খাতের প্রতি জনগণের আস্থা আরও কমে যেতে পারে।





