আন্তর্জাতিক মঞ্চে বাংলাদেশের সায়মা করিম
বাংলাদেশের পাপেট শিল্পকে আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাচ্ছেন বরেণ্য শিল্পী সায়মা করিম। জনপ্রিয় শিশুতোষ অনুষ্ঠান ‘সিসিমপুর’-এর অবিচ্ছেদ্য অংশ হিসেবে দীর্ঘ দুই দশক ধরে কাজ করার পর, এবার যুক্তরাষ্ট্রের নিউ ইয়র্কে পাপেট শিল্পের বৈশ্বিক মঞ্চে দ্যুতি ছড়াচ্ছেন তিনি।
২০০৪ সালে সিসিমপুরের মাধ্যমে পেশাগত যাত্রা শুরু করেন সায়মা করিম। টানা ২১ বছর ধরে সিসিমপুরের অন্যতম জনপ্রিয় চরিত্র ‘টুকটুকি’-কে নিজের অভিনয় ও শৈল্পিক দক্ষতায় প্রাণ দিয়ে আসছেন তিনি। দেশের পাপেট অঙ্গনে অত্যন্ত পরিচিত এই মুখ শুধু সিসিমপুরেই সীমাবদ্ধ থাকেননি; ‘দূরন্ত টিভি’-তে নিজস্ব পাপেট টিমের মাধ্যমে অসংখ্য দর্শকপ্রিয় শো নির্মাণ ও পরিবেশন করেছেন।
আরও পড়ুন: ৫৫ বছরের ইতিহাসে প্রথম, সুপারন্যাচারাল সিরিজ নিয়ে আসছেন সিফাত নুসরাত
সায়মা করিমের শৈল্পিক যাত্রা এখন আর কেবল দেশের সীমানায় সীমাবদ্ধ নেই। বর্তমানে তিনি নিউ ইয়র্কের প্রখ্যাত ‘চেকোস্লোভাক-আমেরিকান ম্যারিওনেট থিয়েটার’ (Czechoslovak-American Marionette Theater) এবং ‘ওল্ড স্টোন হাউস, ব্রুকলিন’-এর সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ পাপেট প্রজেক্টে যুক্ত হয়ে কাজ করছেন। আন্তর্জাতিক পাপেট অঙ্গনে তাঁর এই দক্ষতার স্বীকৃতিস্বরূপ তিনি যুক্তরাষ্ট্রের মর্যাদাপূর্ণ সংগঠন ‘পাপেট্রি গিল্ড অব গ্রেটার নিউ ইয়র্ক’ (PGOGNY)-এর সদস্যপদ লাভ করেছেন।
আরও পড়ুন: নারী নির্যাতন মামলায় হিরো আলম গ্রেপ্তার
সম্প্রতি নিউ ইয়র্কের মঞ্চে সায়মা করিম বেশ কিছু সফল প্রদর্শনীতে অংশ নিয়েছেন। গত ২০ ও ২১ ডিসেম্বর ব্রুকলিনের ওল্ড স্টোন হাউসে চার্লস ডিকেন্সের বিখ্যাত কাহিনি অবলম্বনে ‘এ ক্রিসমাস ক্যারোল’ প্রদর্শিত হয়। টেরিসা লেনিহানের চিত্রনাট্য ও নির্দেশনায় এতে সায়মা করিমের কাজ প্রশংসিত হয়েছে।
এ ছাড়া ২৬ ডিসেম্বর থেকে ১১ জানুয়ারি পর্যন্ত নিউ ইয়র্কের বিখ্যাত ‘থিয়েটার ফর দ্য নিউ সিটি’-তে চেকোস্লোভাক-আমেরিকান ম্যারিওনেট থিয়েটারের প্রযোজনায় “এ ক্রিসমাস ক্যারোল, ওয়য়ে হানুকা, মেরি কোয়ানজা, হ্যাপি রামাদান” শিরোনামে ১২টি শো অনুষ্ঠিত হয়। ভিট হোযের স্ক্রিপ্ট ও নির্দেশনায় এই আন্তর্জাতিক আয়োজনে সায়মা করিমের অংশগ্রহণ বাংলাদেশের পাপেট শিল্পের জন্য এক বড় মাইলফলক।
সায়মা করিম বিশ্বাস করেন, পাপেট কেবল শিশুদের বিনোদনের মাধ্যম নয়; বরং এটি তাদের সঙ্গে মানবিক ও মনস্তাত্ত্বিক সংযোগ স্থাপনের এক শক্তিশালী ভাষা। বিশ্বদরবারে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করার পাশাপাশি তিনি দেশের নতুন প্রজন্মের পাপেট শিল্পীদের জন্য অনুপ্রেরণা হিসেবে কাজ করে চলেছেন।





