যুক্তরাষ্ট্র-ইরান শান্তি চুক্তি চূড়ান্ত
দীর্ঘদিনের উত্তেজনা, সংঘাত ও কূটনৈতিক টানাপোড়েনের পর অবশেষে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে একটি শান্তি চুক্তি চূড়ান্ত হয়েছে। আগামী ১৯ জুন সুইজারল্যান্ডে আনুষ্ঠানিকভাবে এ চুক্তি স্বাক্ষরিত হবে বলে জানিয়েছেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ।
সোমবার (১৫ জুন) ভোররাতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বার্তায় শেহবাজ শরিফ এ তথ্য জানান। তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান শান্তি আলোচনায় অগ্রগতি হয়েছে এবং উভয় পক্ষ একটি চূড়ান্ত সমঝোতায় পৌঁছেছে।
আরও পড়ুন: ইউক্রেনে ভয়াবহ রুশ বিমান হামলা, নিহত অন্তত ৯
পরে চুক্তির বিষয়টি নিশ্চিত করেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে তিনি লেখেন, “ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরানের সঙ্গে চুক্তি এখন সম্পন্ন।”
ট্রাম্প আরও ঘোষণা দেন, বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ হরমুজ প্রণালি টোলমুক্তভাবে চলাচলের জন্য উন্মুক্ত করা হবে এবং যুক্তরাষ্ট্রের নৌবাহিনীর আরোপিত অবরোধও অবিলম্বে তুলে নেওয়া হবে।
আরও পড়ুন: দক্ষিণ এশিয়ায় চতুর্থ শান্তিপূর্ণ দেশ বাংলাদেশ, পিছিয়ে ভারত-পাকিস্তান
তিনি বলেন, “বিশ্বের জাহাজগুলো, তোমাদের ইঞ্জিন চালু করো। তেলের প্রবাহ চলুক।”
তবে চুক্তির বিষয়ে এখনো আনুষ্ঠানিক বিবৃতি দেয়নি ইরান সরকার। যদিও দেশটির রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রীর ঘোষণার বরাত দিয়ে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সমঝোতার খবর প্রচার করেছে।
ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমে এই চুক্তিকে দেশটির কূটনৈতিক বিজয় হিসেবে তুলে ধরা হচ্ছে। সম্প্রচারিত এক ঘোষণায় বলা হয়েছে, ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরান ও ‘রেজিস্ট্যান্স ফ্রন্ট’-এর বিরুদ্ধে যুদ্ধ বন্ধে যুক্তরাষ্ট্র চুক্তিতে পৌঁছাতে বাধ্য হয়েছে।
চুক্তির আগে আঞ্চলিক উত্তেজনা নতুন করে বাড়ে লেবাননের বৈরুতে ইসরায়েলি হামলার ঘটনায়। হামলার নিন্দা জানিয়ে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র উভয় পক্ষই উদ্বেগ প্রকাশ করে।
ইরানের আলোচক মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ ইসরায়েলি হামলার সমালোচনা করে বলেন, এ ঘটনা যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের সক্ষমতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। অন্যদিকে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় হামলার জন্য যুক্তরাষ্ট্রকে দায়ী করে কঠোর প্রতিক্রিয়ার হুঁশিয়ারি দেয়।
এদিকে ট্রাম্প বৈরুত হামলার বিষয়ে বলেন, “এমন সময়ে এ হামলা হওয়া উচিত হয়নি, যখন আমরা ইরানের সঙ্গে শান্তিচুক্তির একেবারে কাছাকাছি অবস্থানে রয়েছি।”
আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলোর তথ্যমতে, প্রস্তাবিত চুক্তির আওতায় হরমুজ প্রণালি পুনরায় উন্মুক্ত করা, ইরানের বন্দরগুলো থেকে মার্কিন নৌ অবরোধ প্রত্যাহার এবং যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বৃদ্ধি অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
এ ছাড়া ইরানের আটকে থাকা প্রায় ২৫ বিলিয়ন ডলারের সম্পদ ছাড়ের বিষয়েও আলোচনা হয়েছে বলে জানা গেছে। বিনিময়ে ইরান পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি না করার এবং চূড়ান্ত চুক্তি না হওয়া পর্যন্ত ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ বা পারমাণবিক স্থাপনা সম্প্রসারণ না করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে বলে বিভিন্ন সূত্র জানিয়েছে।
যদিও চুক্তির পূর্ণাঙ্গ শর্তাবলি এখনো প্রকাশ করা হয়নি, তবে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে এটিকে মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি ও স্থিতিশীলতা প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হিসেবে দেখা হচ্ছে।





