ইরানের সামনে ট্রাম্পের কঠিন পাঁচ শর্ত, না মানলেই হামলা

Sadek Ali
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: ৮:৩৭ পূর্বাহ্ন, ০৮ ফেব্রুয়ারী ২০২৬ | আপডেট: ১০:০০ পূর্বাহ্ন, ০৮ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
ছবিঃ সংগৃহীত
ছবিঃ সংগৃহীত

দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে পরোক্ষ আলোচনা শুরু হয়েছে। গত শুক্রবার ওমানের রাজধানী মাস্কাটে দুই দেশের প্রতিনিধিদের মধ্যে এ আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধজাহাজের বড় বহর পাঠানোর পর চাপ সৃষ্টি করে ইরানকে আলোচনায় আনতে সক্ষম হয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তবে আলোচনার শুরুতেই ইরানের সামনে পাঁচটি কঠিন শর্ত তুলে দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র, যা নিয়ে কূটনৈতিক মহলে তীব্র বিতর্ক দেখা দিয়েছে।

ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যম মারিভ জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র ইরানের কাছে পাঁচটি প্রধান দাবি জানিয়েছে। দাবিগুলো হলো—ইরানের সমৃদ্ধকৃত ৪০০ কেজি ইউরেনিয়াম অন্য দেশে সরিয়ে নেওয়া, পারমাণবিক অবকাঠামো ধ্বংস করা, ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতা সম্পূর্ণ ধ্বংস করা, ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি বা উৎপাদন বন্ধ করা এবং সিরিয়া, ইয়েমেন, ইরাক ও লেবাননে ইরান-সমর্থিত সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর প্রতি সহায়তা বন্ধ করা।

আরও পড়ুন: থাইল্যান্ডে সংসদ নির্বাচন ও গণভোট আজ

আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিষয়ক গবেষণা সংস্থা চাথাম হাউজের পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী ব্রোনওয়েন ম্যাডোক্স বলেছেন, ট্রাম্প প্রশাসনের দাবিগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বিতর্কিত বিষয় হলো ইরানের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি ধ্বংসের শর্ত। তার মতে, এসব ক্ষেপণাস্ত্র ইরানের নিরাপত্তার প্রধান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা হিসেবে বিবেচিত হয়। তিনি বলেন, এই সক্ষমতা হারালে ইরান ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক শক্তির সামনে অনেকটাই অরক্ষিত হয়ে পড়বে।

কূটনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্রের দেওয়া শর্তগুলো বাস্তবায়ন করা ইরানের জন্য অত্যন্ত কঠিন। অনেক বিশ্লেষক মনে করছেন, এসব শর্ত এমনভাবে নির্ধারণ করা হয়েছে যাতে ইরান সেগুলো প্রত্যাখ্যান করে। বর্তমান পরিস্থিতিতে ইরান শর্তগুলো না মানলে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক পদক্ষেপ নেওয়ার আশঙ্কাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।

আরও পড়ুন: আজ থেকে হজ ভিসা ইস্যু শুরু

মধ্যপ্রাচ্যে ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার মধ্যে এই আলোচনা ও শর্তকে ঘিরে আন্তর্জাতিক মহলে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। পরিস্থিতি কোন দিকে গড়ায়, তা এখন অনেকটাই নির্ভর করছে ইরানের সিদ্ধান্তের ওপর।