আন্দোলনে উত্তাল দিল্লি, মোদি সরকারের ওপর বাড়ছে চাপ

Sanchoy Biswas
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: ৮:১৪ অপরাহ্ন, ২২ জুলাই ২০২৬ | আপডেট: ৯:১৭ অপরাহ্ন, ২২ জুলাই ২০২৬
ছবিঃ সংগৃহীত
ছবিঃ সংগৃহীত

ভারতে পরীক্ষাসংক্রান্ত অনিয়ম ও প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগকে কেন্দ্র করে শুরু হওয়া আন্দোলন নতুন রাজনৈতিক মাত্রা পেয়েছে। শিক্ষাব্যবস্থার সংস্কার ও শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবিতে শুরু হওয়া বিক্ষোভ এখন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির পদত্যাগের দাবিতেও রূপ নিয়েছে। বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলোর সমর্থন পাওয়ায় আন্দোলন আরও বিস্তৃত হয়েছে এবং সরকারের ওপর চাপ বেড়েছে।

বুধবার (২২ জুলাই) নয়াদিল্লির যন্তর মন্তরে অনলাইনভিত্তিক ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ (সিজেপি)-এর ডাকে আয়োজিত বিক্ষোভে হাজারো মানুষের অংশগ্রহণ দেখা যায়। আন্দোলনকারীরা জানান, শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান পদত্যাগ না করা পর্যন্ত তারা অবস্থান কর্মসূচি চালিয়ে যাবেন।

আরও পড়ুন: সৌদির সঙ্গে ‘ঐতিহাসিক’ পরমাণু চুক্তিতে ট্রাম্পের অনুমোদন

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমভিত্তিক এই আন্দোলন ২০২৪ সালে নরেন্দ্র মোদি পুনর্নির্বাচিত হওয়ার পর তার সরকারের জন্য অন্যতম বড় রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

ফরাসি বার্তা সংস্থা এএফপির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যন্তর মন্তরে সমবেত আন্দোলনকারীরা শিক্ষা খাতে জবাবদিহি, সংস্কার এবং সরকারের দায় স্বীকারের দাবি জানাচ্ছেন। সমর্থকদের উদ্দেশে সিজেপির মুখপাত্র আশুতোষ রাঙ্কা বলেন, “ধর্মেন্দ্র প্রধান পদত্যাগ না করা পর্যন্ত আমরা যন্তর মন্তর ছাড়ব না।”

আরও পড়ুন: টানা ১১তম দিনের মতো ইরানে মার্কিন হামলা, বিভিন্ন এলাকায় বিস্ফোরণ

তিনি আরও বলেন, “যে দেশে মানুষ প্রশ্ন করতে ভুলে গিয়েছিল, যে দেশে সরকারের সমালোচনাকে দেশদ্রোহিতা হিসেবে দেখা হতো—আমরা সেই দেশকে আবার প্রশ্ন করতে শিখিয়েছি।”

মূলত তরুণ শিক্ষার্থীদের নেতৃত্বে গড়ে ওঠা এই আন্দোলনে মঙ্গলবার বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলোর সমর্থন যুক্ত হয়। একই দিন বিরোধী দলগুলোর নেতারা প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির বাসভবনের সামনে অবস্থান কর্মসূচি পালন করেন।

কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী আন্দোলনকারীদের ওপর পুলিশের দমন-পীড়নের জন্য সরকারের কাছে ক্ষমা দাবি করেন। মঙ্গলবার তাকে প্রতিবাদস্থল থেকে আটক করে কয়েক ঘণ্টা পুলিশ হেফাজতে রাখা হয়। বুধবার কালো পোশাক পরে সংসদে গিয়ে তিনি সরকারের জবাবদিহি দাবি জানান।

সমাজবাদী পার্টির নেতা অখিলেশ যাদব বলেন, তরুণদের ভবিষ্যতের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি নীরব রয়েছেন।

গত মে মাসে ভারতের প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত এক মামলার শুনানিতে কিছু তরুণকে ‘ককরোচ’ ও ‘পরজীবী’ হিসেবে উল্লেখ করেন। এ মন্তব্য প্রকাশ্যে এলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়। এরই প্রেক্ষাপটে ব্যঙ্গাত্মক প্রতীক হিসেবে ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ (সিজেপি) গড়ে ওঠে।

পরবর্তীতে সংগঠনটি বেকারত্ব, কর্মসংস্থান, শিক্ষা খাতের সংকট এবং সরকারের বিভিন্ন নীতির সমালোচনাসহ নানা ইস্যুতে কর্মসূচি শুরু করে।

সোমবার সংসদের বর্ষাকালীন অধিবেশনের প্রথম দিনে আন্দোলনকারীরা পার্লামেন্টের দিকে পদযাত্রার চেষ্টা করলে পুলিশ লাঠিচার্জ ও টিয়ার গ্যাস নিক্ষেপ করে তাদের ছত্রভঙ্গ করে দেয়। পরে পুলিশ ও বিক্ষোভকারীদের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টাধাওয়ার ঘটনাও ঘটে।

দিল্লির বিক্ষোভে পুলিশের অতিরিক্ত বলপ্রয়োগের অভিযোগ তুলেছে স্থানীয় ও আন্তর্জাতিক বিভিন্ন মানবাধিকার সংস্থা।

অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, দিল্লি পুলিশের পদক্ষেপ আন্তর্জাতিক মানবাধিকার মানদণ্ড অনুযায়ী আইনগত প্রয়োজনীয়তা ও আনুপাতিকতার শর্ত পূরণ করেছে কি না, সে বিষয়ে গুরুতর প্রশ্ন রয়েছে।

অন্যদিকে, আন্দোলনকারীদের ওপর পুলিশি নির্যাতনের অভিযোগে দায়ের করা একটি আবেদন শুনতে বুধবার অস্বীকৃতি জানিয়েছে ভারতের সুপ্রিম কোর্ট।

এএফপিকে কাব্য নামে ২০ বছর বয়সী এক শিক্ষার্থী বলেন, “আমি ভয় পাচ্ছি। কারণ সোমবার আমি নিজের চোখে দেখেছি পুলিশ কীভাবে আন্দোলনকারীদের ওপর বলপ্রয়োগ করেছে। কিন্তু আমাদের আন্দোলন চালিয়ে যাওয়া ছাড়া আর কোনো উপায় নেই।”

ভারতের মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসসহ একাধিক পরীক্ষায় অনিয়মের অভিযোগের পর এ আন্দোলনের সূত্রপাত হয়। এসব ঘটনায় প্রায় ২০ লাখ পরীক্ষার্থী পুনরায় পরীক্ষায় অংশ নিতে বাধ্য হয়েছেন।

চাপের মুখে শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান জানিয়েছেন, সরকার শিক্ষা ব্যবস্থায় প্রয়োজনীয় সংস্কার ও সংসদে এ বিষয়ে আলোচনা করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বার্তায় তিনি বলেন, “শিক্ষার্থীদের কাছে আমাদের জবাবদিহি, সংস্কার এবং দায়িত্বশীলতা নিশ্চিত করতে হবে। তারা বিশৃঙ্খলার চেয়ে নিশ্চয়তা এবং স্লোগানের চেয়ে কার্যকর সমাধান পাওয়ার যোগ্য।”

এদিকে দিল্লির বাইরে মুম্বাই, বেঙ্গালুরু ও গোয়াসহ ভারতের বিভিন্ন শহরেও সিজেপির ডাকে বিক্ষোভ কর্মসূচি পালিত হয়েছে।

সূত্র: এএফপি