শিশুর লিভারের রোগের ৫ সতর্ক সংকেত
শিশুরা সব সময় নিজেদের শারীরিক সমস্যার কথা স্পষ্টভাবে প্রকাশ করতে পারে না। ফলে শরীরে কোনো রোগ বাসা বাঁধলেও অনেক ক্ষেত্রে তা অভিভাবকদের নজর এড়িয়ে যায়। বিশেষ করে লিভারের রোগের ক্ষেত্রে ক্লান্তি, খিদে কমে যাওয়া বা পেটের অস্বস্তির মতো উপসর্গগুলোকে অনেকেই সাধারণ সমস্যা বলে মনে করেন। অথচ এসব লক্ষণই কখনও কখনও গুরুতর লিভার রোগের ইঙ্গিত হতে পারে। শিশুরোগ বিশেষজ্ঞ ডা. নন্দিতা সাহার মতে, প্রাথমিক পর্যায়ে লিভারের সমস্যা শনাক্ত করা গেলে অধিকাংশ ক্ষেত্রেই চিকিৎসা অনেক বেশি কার্যকর হয়।
বিশ্ব স্থূলতা অ্যাটলাস (World Obesity Atlas) ২০২৬-এর তথ্য অনুযায়ী, অতিরিক্ত ওজনের কারণে ইতোমধ্যে প্রায় ৮৩ লাখ ভারতীয় শিশু লিভারজনিত সমস্যায় ভুগছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এ অবস্থা ভবিষ্যতে গুরুতর লিভার রোগের ঝুঁকি বাড়াতে পারে।
আরও পড়ুন: কিডনিতে বারবার পাথর হচ্ছে? কারণ জানুন
যেসব লক্ষণ দেখলে সতর্ক হবেন
১. ত্বক ও চোখ হলুদ হয়ে যাওয়া
আরও পড়ুন: মুখের ঘা বারবার হচ্ছে? যেসব খাবার সমস্যা বাড়িয়ে দিতে পারে
লিভারের সমস্যার অন্যতম পরিচিত লক্ষণ হলো জন্ডিস। এ ক্ষেত্রে শিশুর চোখের সাদা অংশ এবং ত্বকে হলুদ আভা দেখা দিতে পারে। পাশাপাশি মলের রং ফ্যাকাশে হয়ে যেতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এটি বিলিয়ারি অ্যাট্রিসিয়ার মতো গুরুতর রোগেরও ইঙ্গিত হতে পারে।
২. অস্বাভাবিক ক্লান্তি
খেলাধুলা বা স্বাভাবিক কর্মকাণ্ডের পর শিশুর অতিরিক্ত ক্লান্ত হয়ে পড়া, সব সময় ঘুম ঘুম ভাব থাকা, দুর্বলতা অনুভব করা কিংবা আগের তুলনায় কম সক্রিয় হয়ে যাওয়া লিভারের সমস্যার লক্ষণ হতে পারে।
৩. খিদে কমে যাওয়া
লিভারের সমস্যার কারণে শিশুর খাবারের প্রতি আগ্রহ কমে যেতে পারে। পছন্দের খাবারও না খেতে চাওয়া, অল্প খেয়েই পেট ভরে যাওয়া, ওজন না বাড়া বা কমে যাওয়ার মতো লক্ষণ দেখা দিলে গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন।
৪. সহজে রক্তপাত বা কালশিটে দাগ
লিভার রক্ত জমাট বাঁধার জন্য প্রয়োজনীয় কিছু উপাদান তৈরি করে। তাই লিভারে সমস্যা হলে সামান্য আঘাতেই শরীরে কালশিটে দাগ পড়তে পারে বা রক্তপাত সহজে বন্ধ নাও হতে পারে। পা ফুলে যাওয়ার মতো উপসর্গও দেখা দিতে পারে।
৫. অকারণ চুলকানি
ত্বকে দৃশ্যমান কোনো সমস্যা না থাকলেও দীর্ঘ সময় ধরে চুলকানি হতে পারে। চিকিৎসকদের মতে, অনেক ক্ষেত্রে এটি লিভারের অসুস্থতার একটি গুরুত্বপূর্ণ লক্ষণ।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এসব উপসর্গের এক বা একাধিক লক্ষণ শিশুর মধ্যে দেখা গেলে দেরি না করে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত। কারণ দ্রুত রোগ শনাক্ত করা গেলে জটিলতা এড়ানো এবং কার্যকর চিকিৎসা নিশ্চিত করা সম্ভব।





