কিডনিতে বারবার পাথর হচ্ছে? কারণ জানুন

Any Akter
লাইফস্টাইল ডেস্ক
প্রকাশিত: ১১:৫৬ পূর্বাহ্ন, ২০ জুন ২০২৬ | আপডেট: ৩:২৯ অপরাহ্ন, ২০ জুন ২০২৬
ছবিঃ সংগৃহীত
ছবিঃ সংগৃহীত

কিডনিতে পাথর হওয়া একটি সাধারণ মূত্রতন্ত্রজনিত সমস্যা। বিশেষজ্ঞদের মতে, নারীদের তুলনায় পুরুষদের মধ্যে কিডনিতে পাথর হওয়ার ঝুঁকি বেশি। অনেকের ক্ষেত্রে একবার পাথর হওয়ার পরও বারবার একই সমস্যার মুখোমুখি হতে হয়, যার পেছনে বিভিন্ন স্বাস্থ্যগত ও জীবনযাপনসংক্রান্ত কারণ কাজ করে।

বিশেষজ্ঞরা জানান, কিডনিতে বারবার পাথর হওয়ার অন্যতম কারণ হলো পর্যাপ্ত পানি না পান করা, অস্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস, স্থূলতা, বিপাকীয় (মেটাবলিক) সমস্যা এবং পারিবারিক ইতিহাস। এছাড়া কিছু মানুষের শরীরে স্বাভাবিকভাবেই ক্যালসিয়াম, অক্সালেট বা ইউরিক অ্যাসিডের মতো পাথর সৃষ্টিকারী উপাদান বেশি পরিমাণে নিঃসৃত হয়, যা পুনরায় পাথর হওয়ার ঝুঁকি বাড়িয়ে দেয়।

আরও পড়ুন: মুখের ঘা বারবার হচ্ছে? যেসব খাবার সমস্যা বাড়িয়ে দিতে পারে

চিকিৎসকদের মতে, অনেকেই মনে করেন পাথর অপসারণের মাধ্যমে সমস্যার সমাধান হয়ে যায়। তবে বাস্তবে কিডনি থেকে পাথর অপসারণের পরও নতুন করে পাথর হওয়ার ঝুঁকি থেকে যায়। প্রয়োজনীয় প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ না করলে ভবিষ্যতে আবারও কিডনিতে পাথর তৈরি হতে পারে।

বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ অনুযায়ী, যাদের বারবার কিডনিতে পাথর হওয়ার ইতিহাস রয়েছে বা যাদের উভয় কিডনিতে, একাধিক কিংবা বড় আকারের পাথর রয়েছে, তাদের রক্ত ও মূত্র পরীক্ষা করানো উচিত। এর মাধ্যমে পাথর তৈরির অন্তর্নিহিত কারণ শনাক্ত করা সম্ভব হয়। এ ক্ষেত্রে একজন ইউরোলজিস্টের পরামর্শ নেওয়া জরুরি, যা ভবিষ্যতে পাথর হওয়ার ঝুঁকি কমাতে সহায়ক হতে পারে।

আরও পড়ুন: তীব্র গরমে সুস্থ থাকতে ৫ জরুরি অভ্যাস

কিডনিতে পাথর প্রতিরোধে পর্যাপ্ত পানি পান করা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। দ্য ল্যানসেট-এ প্রকাশিত একটি র‍্যান্ডমাইজড কন্ট্রোলড ট্রায়ালে দেখা গেছে, সঠিক হাইড্রেশন কিডনি পাথর প্রতিরোধে কার্যকর ভূমিকা রাখে।

এ ছাড়া অতিরিক্ত লবণ গ্রহণ কমানোর পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। খাবারের স্বাদ বাড়াতে অতিরিক্ত লবণের পরিবর্তে বিভিন্ন ভেষজ ও স্বাস্থ্যকর মসলা ব্যবহার করা যেতে পারে।

সুষম খাদ্যাভ্যাসও কিডনির সুস্থতায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব ডায়াবেটিস অ্যান্ড ডাইজেস্টিভ অ্যান্ড কিডনি ডিজিজেস (NIDDK)-এর তথ্য অনুযায়ী, ড্যাশ (DASH) ডায়েট অনুসরণ করলে কিডনিতে পাথর হওয়ার ঝুঁকি উল্লেখযোগ্যভাবে কমানো সম্ভব।