ইউরিক অ্যাসিড বাড়লে কোন খাবার এড়িয়ে চলবেন? তালিকায় আছে চিংড়ি, কোমল পানীয়ও

Any Akter
লাইফস্টাইল ডেস্ক
প্রকাশিত: ২:১০ অপরাহ্ন, ২৩ অগাস্ট ২০২৬ | আপডেট: ৪:৪৮ পূর্বাহ্ন, ২৪ অগাস্ট ২০২৬
ছবিঃ সংগৃহীত
ছবিঃ সংগৃহীত

ইউরিক অ্যাসিড বেড়ে গেলে খাবারের বিষয়ে বাড়তি সতর্কতা জরুরি। কারণ রক্তে ইউরিক অ্যাসিডের মাত্রা বেশি হলে তা শরীরের বিভিন্ন অস্থিসন্ধিতে ক্রিস্টাল হিসেবে জমে গিয়ে তীব্র ব্যথা ও প্রদাহের কারণ হতে পারে। দীর্ঘদিন নিয়ন্ত্রণে না থাকলে কিডনিতে পাথরসহ অন্যান্য জটিলতার ঝুঁকিও বাড়তে পারে। অনেকেই ইউরিক অ্যাসিড বাড়লে শুধু লাল মাংস বা ডাল এড়িয়ে চলেন। তবে খাবারের তালিকায় আরও কিছু বিষয় রয়েছে, যেগুলো পরিমিত করা বা এড়িয়ে চলার পরামর্শ দেওয়া হয়।

যেসব খাবারে সতর্ক থাকবেন

আরও পড়ুন: প্রতিদিন শ্যাম্পু করলে কি চুল বেশি পড়ে? যা বলছেন বিশেষজ্ঞরা

সামুদ্রিক খাবার

কিছু সামুদ্রিক খাবারে পিউরিনের পরিমাণ বেশি থাকে। বিশেষ করে কাঁকড়া, চিংড়িসহ নির্দিষ্ট কিছু সামুদ্রিক খাবার ইউরিক অ্যাসিড নিয়ন্ত্রণে সমস্যা তৈরি করতে পারে। তাই এগুলো খাওয়ার ক্ষেত্রে সতর্ক থাকা প্রয়োজন।

আরও পড়ুন: আপেল সাইডার ভিনেগার খাওয়ার সঠিক নিয়ম, কী কী উপকার হতে পারে?

প্রক্রিয়াজাত মাংস ও ফাস্টফুড

বার্গার, সসেজ, পিৎজাসহ অতিরিক্ত প্রক্রিয়াজাত ও উচ্চ চর্বিযুক্ত খাবার নিয়মিত খাওয়া স্বাস্থ্যের জন্য ভালো নয়। ইউরিক অ্যাসিড নিয়ন্ত্রণের ক্ষেত্রেও এসব খাবার কমানো যেতে পারে।

চিনি ও কোমল পানীয়

অতিরিক্ত চিনি দেওয়া কোমল পানীয় ও মিষ্টি পানীয় ইউরিক অ্যাসিডের মাত্রা নিয়ন্ত্রণে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। বাজারের বিভিন্ন মিষ্টি ‘হেলথ ড্রিঙ্ক’ও নিয়মিত পান করার আগে সতর্ক হওয়া দরকার।

অ্যালকোহল

অতিরিক্ত অ্যালকোহল গ্রহণ ইউরিক অ্যাসিডের মাত্রা বাড়াতে পারে। তাই ইউরিক অ্যাসিডের সমস্যা থাকলে অ্যালকোহল এড়িয়ে চলা বা চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী সীমিত করা গুরুত্বপূর্ণ।

তেঁতুল

তেঁতুল নিয়ে ইউরিক অ্যাসিডের ক্ষেত্রে নানা প্রচলিত ধারণা রয়েছে। তবে তেঁতুল সরাসরি ইউরিক অ্যাসিড বাড়ায়—এমন শক্ত প্রমাণ নেই। তাই শুধু ইউরিক অ্যাসিডের কারণে তেঁতুল পুরোপুরি বাদ দেওয়ার আগে চিকিৎসক বা পুষ্টিবিদের পরামর্শ নেওয়া ভালো।

সয়াবিন ও সয়াজাতীয় খাবার

সয়াবিনে পিউরিন রয়েছে। তবে উদ্ভিজ্জ পিউরিনসমৃদ্ধ খাবারকে সব ক্ষেত্রে সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করার প্রয়োজন হয় না। ব্যক্তির ইউরিক অ্যাসিডের মাত্রা ও অন্যান্য শারীরিক অবস্থার ওপর ভিত্তি করে খাবারের তালিকা নির্ধারণ করা উচিত।

শুধু খাবার বাদ দিলেই নিয়ন্ত্রণে থাকবে?

ইউরিক অ্যাসিড নিয়ন্ত্রণে খাবারের পাশাপাশি পর্যাপ্ত পানি পান, স্বাস্থ্যকর ওজন বজায় রাখা এবং চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী ওষুধ গ্রহণ গুরুত্বপূর্ণ। ইউরিক অ্যাসিড বা গাউটের সমস্যা থাকলে নিজের ইচ্ছায় কোনো খাবার পুরোপুরি বাদ দেওয়ার বদলে চিকিৎসক বা নিবন্ধিত পুষ্টিবিদের পরামর্শ নেওয়া নিরাপদ। বিশেষ করে তীব্র গাঁটের ব্যথা, ফোলা বা বারবার এমন সমস্যা হলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।