নারীদের এনজিও ঋণের দায়িত্ব নেবে সরকার: মির্জা ফখরুল

Sadek Ali
বাংলাবাজার রিপোর্ট
প্রকাশিত: ১০:২৯ অপরাহ্ন, ৩১ জানুয়ারী ২০২৬ | আপডেট: ১২:৩৫ পূর্বাহ্ন, ০১ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
ছবিঃ সংগৃহীত
ছবিঃ সংগৃহীত

বিএনপি ক্ষমতায় এলে কৃষকদের জন্য ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষি ঋণ সুদসহ মওকুফ করা হবে এবং এনজিও থেকে নেওয়া নারীদের কিস্তির ঋণের দায়িত্ব সরকার নেবে বলে ঘোষণা দিয়েছেন বিএনপির মহাসচিব ও ঠাকুরগাঁও-১ আসনের ধানের শীষ প্রার্থী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

শনিবার (৩১ জানুয়ারি) ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার আকচা ইউনিয়নে এক নির্বাচনি পথসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব প্রতিশ্রুতি দেন।

আরও পড়ুন: যারাই বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করবে, তাদের ‘গুপ্ত’ বলবেন: তারেক রহমান

মির্জা ফখরুল বলেন, “বিএনপি ক্ষমতায় গেলে ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষকদের কৃষি ঋণ সুদসহ মাফ করে দেওয়া হবে। নারীদের জন্যও সুখবর আছে। আপনারা এনজিও থেকে কিস্তিতে ঋণ নেন—তারেক রহমান বলেছেন, সেই ঋণের দায়িত্ব সরকার নেবে।”

তিনি অতীতের উদাহরণ টেনে বলেন, “আমরা যখন সরকারে ছিলাম, তখন ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত ঋণ মাফ করেছিলাম এবং ২৫ বিঘা পর্যন্ত জমির খাজনা মওকুফ করেছিলাম।”

আরও পড়ুন: ১৪ হাজার সাংবাদিকের তথ্য ফাঁস!

আসন্ন নির্বাচন নিয়ে আশাবাদ ব্যক্ত করে বিএনপি মহাসচিব বলেন, “এবার দেশে ভালো নির্বাচন হবে। সবাই ভোট দিতে পারবে। ভালো মানুষ ও ভালো দলকে ভোট দিয়ে নির্বাচিত করার সুযোগ রয়েছে। আপনারা সবাই ভোট দিতে চান।”

তিনি বলেন, “দেশের দরকার এমন একটি সরকার, যার অভিজ্ঞতা আছে এবং যারা আমানতের খেয়ানত করে না।”

প্রতিদ্বন্দ্বী রাজনৈতিক শক্তির প্রসঙ্গে মির্জা ফখরুল বলেন, “এবার আওয়ামী লীগ নেই, নৌকা মার্কা নেই—এবার দাঁড়িপাল্লা। দাঁড়িপাল্লা অনেক আগে থেকে রাজনীতি করে আসছে, কিন্তু প্রশ্ন অন্য জায়গায়।”

১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের কথা স্মরণ করে তিনি বলেন, “আমরা স্বাধীনতা যুদ্ধ করেছি। এক কোটি মানুষ ভারতে আশ্রয় নিয়েছিল। আমার ঠাকুরগাঁওয়ের বাড়ি থেকে পাকিস্তানিরা বিদ্যুতের তার পর্যন্ত খুলে নিয়ে গিয়েছিল। বহু মানুষ হত্যা করা হয়েছে, মা-বোনদের সম্ভ্রমহানি হয়েছে। যারা বাংলাদেশকে মানতে চায়নি, শুধু বাংলাদেশ নয়—পাকিস্তানকেও মানতে চায়নি, তাদের কীভাবে ভোট দেব?”

তিনি আরও বলেন, “বাংলাদেশের মানুষ যুগ যুগ ধরে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির বন্ধনে আবদ্ধ। দেশের উন্নয়ন ও অগ্রগতির পথে বিভাজনের রাজনীতি বড় বাধা। যারা ধর্মের নামে বিভেদ সৃষ্টি করে, তারা এলে দেশের স্বার্থের বিরোধী।”

দেশের স্বাধীনতা, গণতন্ত্র ও জনগণের অধিকার রক্ষায় সব ধর্ম ও সম্প্রদায়ের মানুষকে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানান বিএনপি মহাসচিব।

ব্যক্তিগত সততার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, “আমি যখন মন্ত্রী ছিলাম, তখন কারো কাছ থেকে এক কাপ চাও গ্রহণ করিনি।”

পথসভায় স্থানীয় বিএনপি নেতাকর্মী ও বিপুলসংখ্যক সমর্থক উপস্থিত ছিলেন।