সংসদ নির্বাচনে ব্যয়ে ‘সংযমী’ জাতীয় পার্টি, ১৯৬ আসনে দলীয় খরচ মাত্র ৫ লাখ টাকা
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নিয়ে ১৯৬টি আসনে প্রার্থী দিলেও দলীয়ভাবে সীমিত ব্যয়ের হিসাব জমা দিয়েছে জাতীয় পার্টি। নির্বাচন কমিশনে জমা দেওয়া ব্যয় বিবরণীতে দলটি মোট খরচ দেখিয়েছে ৫ লাখ ৫ হাজার টাকা, যা আইন অনুযায়ী অনুমোদিত সর্বোচ্চ ব্যয়ের তুলনায় অত্যন্ত কম। রাজনৈতিক অঙ্গনে বিষয়টি নিয়ে নানা আলোচনা তৈরি হয়েছে, বিশেষ করে এমন এক নির্বাচনের প্রেক্ষাপটে যেখানে দলটির সংসদীয় উপস্থিতি পুরোপুরি হারিয়ে গেছে।
বুধবার নির্বাচন কমিশনে জমা দেওয়া হিসাব অনুযায়ী, জি এম কাদের নেতৃত্বাধীন জাতীয় পার্টি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দলীয় প্রচারণা বাবদ ব্যয় করেছে ৩ লাখ ২৫ হাজার টাকা। এছাড়া জনসভা আয়োজনের জন্য ব্যয় দেখানো হয়েছে ১ লাখ ১৫ হাজার টাকা এবং কর্মী ব্যবস্থাপনায় খরচ হয়েছে ৬৫ হাজার টাকা। সব মিলিয়ে মোট ব্যয়ের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৫ লাখ ৫ হাজার টাকা।
আরও পড়ুন: এমপি গাজী নজরুলসহ ৫ জনের বিরুদ্ধে মামলা, গ্রেফতার যেকোনো সময়
গত ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দলটি ১৯৬টি আসনে প্রার্থী দেয়। বিদ্যমান নির্বাচন আইন ও গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ অনুযায়ী, ১০১ থেকে ২০০টি আসনে প্রার্থী দিলে কোনো রাজনৈতিক দল সর্বোচ্চ ৩ কোটি টাকা পর্যন্ত দলীয় ব্যয় করতে পারে। এর বাইরে প্রতিটি প্রার্থী নিজ নিজ আসনের ভোটারসংখ্যা অনুযায়ী পৃথকভাবে নির্বাচনী ব্যয় করার সুযোগ পান।
নির্বাচনসংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, বড় রাজনৈতিক দলগুলোর ক্ষেত্রে সাধারণত প্রার্থীদের অনুদান, প্রচারণা উপকরণ, মাঠপর্যায়ের সাংগঠনিক তৎপরতা এবং গণসংযোগ কার্যক্রমে উল্লেখযোগ্য ব্যয় দেখা যায়। তবে জাতীয় পার্টি তাদের জমা দেওয়া বিবরণীতে প্রার্থীদের জন্য কোনো অনুদান বা সহায়তা খাতে ব্যয়ের তথ্য উল্লেখ করেনি।
আরও পড়ুন: সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামকে জামায়াত থেকে বহিষ্কার
এর আগে মঙ্গলবার বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী তাদের নির্বাচনী ব্যয়ের হিসাব নির্বাচন কমিশনে জমা দেয়। দলটি প্রায় সাড়ে চার কোটি টাকা ব্যয়ের তথ্য উল্লেখ করেছে। এবারের নির্বাচনে নিজেদের ইতিহাসে সর্বোচ্চ সাফল্য দেখিয়ে দলটি জাতীয় সংসদে বিরোধী দলের আসন দখল করেছে।
অন্যদিকে, দীর্ঘ সময় ধরে জাতীয় সংসদে বিরোধী দলের ভূমিকায় থাকা জাতীয় পার্টি এবারের নির্বাচনে বড় ধরনের রাজনৈতিক ধাক্কার মুখে পড়ে। হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদ প্রতিষ্ঠিত দলটি ১৯৮৬ সালের পর এই প্রথম জাতীয় সংসদে কোনো আসন পায়নি।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, নির্বাচনের ফলাফল এবং ব্যয়ের সীমিত চিত্র—দুটিই বর্তমান রাজনৈতিক বাস্তবতায় জাতীয় পার্টির সাংগঠনিক ও রাজনৈতিক অবস্থান সম্পর্কে নতুন করে প্রশ্ন তৈরি করেছে। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে দলটির রাজনৈতিক কৌশল ও পুনর্গঠনের বিষয়টিও সামনে চলে এসেছে।





