শান্ত-ফিজে ভর করে কিউদের বিপক্ষে সিরিজ জিতল টাইগাররা

Sanchoy Biswas
স্পোর্টস ডেস্ক
প্রকাশিত: ৮:২৩ অপরাহ্ন, ২৩ এপ্রিল ২০২৬ | আপডেট: ৯:৩৮ অপরাহ্ন, ২৩ এপ্রিল ২০২৬
ছবিঃ সংগৃহীত
ছবিঃ সংগৃহীত

নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ঘরের মাঠে সিরিজ জিতল বাংলাদেশ। বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল) চট্টগ্রামের বীরশ্রেষ্ঠ ফ্লাইট লেফটেনেন্ট মতিউর রহমান ক্রিকেট স্টেডিয়ামে সিরিজ নির্ধারণী ম্যাচে ৫৫ রানের জয় পেয়েছে টাইগাররা। প্রথম দুই ম্যাচ না খেলা মোস্তাফিজ দলে ফিরেই পার্থক্য গড়ে দিয়েছেন। তিনি নিয়েছেন ৫ উইকেট। এর আগে ব্যাটিংয়ে নেমে ৮ উইকেটে ২৬৫ রান করে বাংলাদেশ। প্রায় দুই বছর পর সেঞ্চুরি পেয়েছেন নাজমুল হোসেন শান্ত।

জবাবে ব্যাট করতে নেমে নিয়মিত বিরতিতেই উইকেট হারাতে থাকে টম ল্যাথামের নিউজিল্যান্ড। ইনিংসের চতুর্থ ওভারেই প্রথম উইকেট হারায় তারা। চোট কাটিয়ে একাদশে ফেরা মোস্তাফিজুর রহমান তুলে নেন হেনরি নিকোলসকে। প্রথম ১০ ওভারে ১ উইকেট হারিয়ে ৩৩ রান তুলতে পারে কিউইরা। এরপর উইকেটে থিতু হওয়া উইল ইয়াংকে ১৪তম ওভারে ফেরান নাহিদ রানা।

আরও পড়ুন: হালান্ডের গোলে শীর্ষে ম্যানচেস্টার সিটি

অফ স্টাম্পের বাইরে শর্ট বলে কাট করতে গিয়ে লিটনের হাতে ক্যাচ দেন ইয়াং। তার ব্যাট থেকে আসে ১৯ রান। তিন ওভার পর নিউজিল্যান্ড অধিনায়ক টম ল্যাথাম ফেরেন মেহেদী হাসান মিরাজের শিকার হয়ে। মিডল স্টাম্পে থাকা ফুল লেংথ বলটিকে ল্যাথাম নিচু হয়ে সুইপ করতে চেয়েছিলেন। কিন্তু বল ব্যাটের উপরের কানায় লেগে শর্ট ফাইন লেগ অঞ্চলে সহজেই ক্যাচ নেন শরিফুল।

এরপর নিক কেলি ও মোহাম্মদ আব্বাস মিলে চাপ সামলানোর চেষ্টা করেন। উইকেটে থিতুও হয়েছিলেন দুজনই। তবে দুজনের জুটি বড় হতে দেননি মোস্তাফিজুর রহমান। ২৬তম ওভারে কেলিকে ফিরিয়ে দেন এই বাঁ-হাতি পেসার। এর কিছুক্ষণ পর আব্বাসকেও হারায় নিউজিল্যান্ড।

আরও পড়ুন: বাংলাদেশকে জরিমানা করল আইসিসি

শরিফুলের শিকার হয়ে ফেরার আগে ৩৬ বল খেলে ২৫ রান করেন তিনি। ৪ ওভার পর নাহিদ রানার করা ঘণ্টায় ১৪৮.৬ কিলোমিটারের ইয়র্কারে জশ ক্লার্কসনের উইকেট উপড়ে যায়। ৩৪ ওভারে ১৩৭ রানে ৬ উইকেট হারিয়ে ফেলা নিউজিল্যান্ড ততক্ষণে ম্যাচ থেকে অনেকটাই ছিটকে যায়।

এরপর ১৫০ থেকে ১৬০ রানের মধ্যে ৩ উইকেট নিয়ে নিজের ফাইফার পূর্ণ করেন মোস্তাফিজুর রহমান। শেষদিকে ডিন ফক্সক্রফট একাই লড়াই চালিয়ে যান। ৪২তম ওভারে তানভীর ইসলামকে দুইটি ছক্কা এবং পরের ওভারে মোস্তাফিজকেও টানা দুই ছক্কা হাঁকান তিনি। তবে তার ৭৫ রানের ইনিংস কেবল হারের ব্যবধানই কমিয়েছে।

এর আগে টস হেরে ব্যাটিংয়ে নেমে শুরুতেই চাপে পড়ে বাংলাদেশ। প্রথম ৩ ওভারের মধ্যে ফিরে যান দুই ওপেনার সাইফ হাসান ও তানজিদ হাসান তামিম। সৌম্য সরকারও ইনিংস বড় করতে পারেননি (১৮)। ৩২ রানে ৩ উইকেট হারানোর পর হাল ধরেন নাজমুল হোসেন শান্ত ও লিটন কুমার দাস।

৩৩তম ওভারে এক রান নিয়ে ওয়ানডেতে নিজের ১৩তম ফিফটি পূর্ণ করেন লিটন। ৭৬ রানের ইনিংসে ৩৯তম ওভারে তিনি আউট হলে ভাঙে ১৬০ রানের জুটি।

এরপর শান্ত ১১৪ বলে সেঞ্চুরি পূর্ণ করেন, যা তার ক্যারিয়ারের চতুর্থ ওয়ানডে শতক। ১১৯ বলে ১০৫ রানের ইনিংস খেলেন তিনি, যেখানে ছিল ৯টি চার ও ২টি ছক্কা। তবে সেঞ্চুরির পর তিনিও দ্রুত ফিরে যান।

শেষদিকে বাংলাদেশের ব্যাটিং আবার ছন্দ হারায়। ৩০০ রানের সম্ভাবনা থাকলেও শেষ ১০ ওভারে মাত্র ৬১ রান যোগ হয়। ফলে ২৬০ রানের কাছাকাছি থেমে যায় স্বাগতিকদের ইনিংস।