এশিয়ান গেমসে ইতিহাস গড়তে যাচ্ছেন কক্সবাজারের ফাতেমা

Sadek Ali
কক্সবাজার প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ৮:৪৯ পূর্বাহ্ন, ০৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | আপডেট: ৯:৪৪ পূর্বাহ্ন, ০৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬
ছবিঃ সংগৃহীত
ছবিঃ সংগৃহীত

পাহাড় আর সাগরের দেশ কক্সবাজারের উত্তাল ঢেউয়ের বুকে প্রতিদিন সূর্যোদয়ের সাথে সাথে আঁকা হচ্ছে এক নতুন ইতিহাসের গল্প। সমুদ্রের বিশালতাকে জয় করে জাপানের আইচি-নাগোয়ায় অনুষ্ঠেয় ২০তম এশিয়ান গেমসে বাংলাদেশকে প্রতিনিধিত্ব করতে যাচ্ছেন তরুণ সার্ফার ফাতেমা আক্তার। প্রথম বাংলাদেশি নারী হিসেবে কোনো আন্তর্জাতিক সার্ফিং প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়ে বিশ্বমঞ্চে লাল-সবুজের পতাকা ওড়ানোর অপেক্ষায় দিন গুনছেন এই উদীয়মান ক্রীড়াবিদ।

ফাতেমা আক্তারের পৈতৃক বাড়ি কক্সবাজারের দ্বীপ উপজেলা মহেশখালীতে। বাবা ফকির আহমদ পরিবারের জীবিকার প্রয়োজনে মহেশখালী ছেড়ে কক্সবাজার শহরে থিতু হন। বর্তমানে তাঁরা শহরের কলাতলী এলাকায় বসবাস করছেন। চার ভাই-বোনের মধ্যে তৃতীয় ফাতেমা একটি অতি সাধারণ ও সুবিধাবঞ্চিত পরিবারে বড় হয়েছেন।

আরও পড়ুন: প্রিমিয়ার লিগে দলবদলে নতুন রেকর্ড

​একটি রক্ষণশীল সমাজ থেকে উঠে এসে সার্ফিংয়ের মতো ঝুঁকিপূর্ণ ও চ্যালেঞ্জিং খেলায় নিজের অবস্থান তৈরি করা ফাতেমার জন্য মোটেই সহজ ছিল না। সামাজিক নানা বাধা ও প্রতিকূলতা পেছনে ফেলে সামনে এগিয়ে যাওয়ার এই কঠিন পথচলায় ফাতেমার সবচেয়ে বড় শক্তি ছিলেন তাঁর মা।

​নিজের অনুভূতির কথা প্রকাশ করতে গিয়ে ফাতেমা আক্তার বলেন, “প্রথমে পরিবার আর আশপাশের মানুষের দৃষ্টিভঙ্গি সামলানো কঠিন ছিল। কিন্তু মা সব সময় আমার পাশে থেকে সাহস জুগিয়েছেন। সার্ফিং এখন শুধু আমার পছন্দ নয়, এটা আমার স্বপ্ন। এশিয়ান গেমসে দেশের জন্য ভালো কিছু করে সবাইকে দেখাতে চাই।”

আরও পড়ুন: ৯১ বছরের ইতিহাস ভেঙে বার্সেলোনার নতুন রেকর্ড গড়লেন ইয়ামাল

দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী ফাতেমার কাছে পড়ালেখার পাশাপাশি খেলাধুলার এই ভারসাম্য বজায় রাখা এক বড় চ্যালেঞ্জ। তবে বিশ্বমঞ্চে দেশের সম্মান অক্ষুণ্ণ রাখতে অনুশীলনে কোনো কমতি রাখছেন না তিনি।

​প্রতিদিন খুব ভোরে যখন সৈকত শান্ত থাকে, তখন থেকেই কক্সবাজার সমুদ্রসৈকতে শুরু হয় তাঁর কঠোর অনুশীলন। বর্তমানে ‘বাংলাদেশ সার্ফ গার্লস অ্যান্ড বয়েজ ক্লাব’-এর প্রধান কোচ রাশেদ আলমের নিবিড় তত্ত্বাবধানে তিনি প্রশিক্ষণ নিচ্ছেন। সাগরের উত্তাল ঢেউয়ের সাথে নিজেকে মানিয়ে নিতে অনুশীলনে তাঁর সঙ্গী হয়েছেন সহ-সার্ফার মোহাম্মদ মান্নান।

​শিক্ষার্থীর প্রতি আত্মবিশ্বাসী কোচ রাশেদ আলম জানান, “ফাতেমার মধ্যে শেখার প্রচণ্ড আগ্রহ এবং মানসিক শক্তি আছে। প্রতিদিনের কঠোর অনুশীলনে সে নিজেকে বেশ গুছিয়ে এনেছে। এশিয়ান গেমসের মতো বড় প্রতিযোগিতায় সে বাংলাদেশকে দারুণভাবে তুলে ধরতে পারবে বলে আমার বিশ্বাস।”

বাংলাদেশের মতো দেশে নারী সার্ফিং এখনো বেশ নতুন। স্থানীয় ক্রীড়া সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, ফাতেমার এই অর্জন দেশের নারী ক্রীড়াঙ্গনে এক নতুন ও আশাব্যঞ্জক অধ্যায়ের সূচনা করবে।

​কক্সবাজারের জেলা ক্রীড়া সংস্থার সাবেক সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক জসিম উদ্দিন বলেন, “সুবিধাবঞ্চিত পরিবার থেকে এসে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে দেশের প্রতিনিধিত্ব করা সত্যিই প্রশংসনীয়। ফাতেমার এই সাফল্য স্থানীয় অন্যান্য তরুণী ও সুবিধাবঞ্চিত মেয়েদের ক্রীড়াঙ্গনে আসতে অনুপ্রাণিত করবে। আমি তাঁর সফলতা কামনা করছি। ফাতেমার এই যাত্রা বিশ্বমঞ্চে আলোকিত করে দেশের সম্মান বয়ে আনবে।”

​জাপানের এশিয়ান গেমসের মঞ্চে ফাতেমার লাল-সবুজ পতাকার প্রতিনিধিত্ব বাংলাদেশের ক্রীড়া ইতিহাসে এক মাইলফলক হয়ে থাকবে।