ঢাকা-মাওয়া এক্সপ্রেসওয়েতে ভয়াবহ ডাকাতি চেষ্টা: আন্তঃজেলা ডাকাত দলের ৫ সদস্য গ্রেফতার
মাদারীপুর জেলার শিবচর থানার ভদ্রাসন এলাকার বাসিন্দা মো. রবিউল আলম (৩০) একজন অসুস্থ প্রতিবেশীকে চিকিৎসার জন্য মঙ্গলবার (৬ মে) রাত ১টা ৩০ মিনিটে তার ব্যক্তিগত গাড়িতে করে ঢাকার উদ্দেশ্যে রওনা হন। রাত ২টার দিকে ঢাকা-মাওয়া এক্সপ্রেসওয়ের শ্রীনগর থানাধীন ছনবাড়ি মোড়ে যানজটের কারণে তিনি সার্ভিস লেনে গাড়ি নামিয়ে চলতে থাকেন। এসময় ষোলঘর এলাকার কাছে রাস্তার ওপর ছনের আটি দিয়ে তৈরি করা একটি ব্যারিকেড দেখতে পান।
তিনি গাড়ি থামানোর সঙ্গে সঙ্গেই নিচ থেকে দেশীয় ধারালো অস্ত্রশস্ত্রে সজ্জিত ছয়জন ডাকাত তার গাড়ির দিকে আক্রমণাত্মকভাবে এগিয়ে আসে। একজন ডাকাত গাড়ির ডানপাশে আঘাত করলেও দক্ষ চালক তাৎক্ষণিকভাবে গাড়িটি পেছনে চালিয়ে নিরাপদে সরে যেতে সক্ষম হন। ডাকাতরা গাড়ির পেছনে ধাওয়া করে এবং এক পর্যায়ে এক ডাকাত গাড়ির দিকে অস্ত্র ছুঁড়ে মারে, যার আঘাতে গাড়ির ডান পাশের লুকিং গ্লাস ও বনেট ক্ষতিগ্রস্ত হয়। সৌভাগ্যবশত গাড়ির ফ্রন্ট ক্যামেরায় সম্পূর্ণ ঘটনাটি রেকর্ড হয় এবং তা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ও গণমাধ্যমে ব্যাপকভাবে প্রচারিত হয়।
আরও পড়ুন: গাজীপুর প্রেসক্লাবের নির্বাচন ঘিরে সরকারের বিরুদ্ধে মিথ্যাচারের প্রতিবাদে মানববন্ধন
এই ঘটনার পর মুন্সীগঞ্জ জেলা পুলিশের একটি চৌকস ডিবি টিম, এসআই আবুল কালাম আজাদের নেতৃত্বে ভিডিও ফুটেজ বিশ্লেষণ করে অভিযান চালায়। ৬ মে দুপুর থেকে শুরু হয়ে ৭ মে দুপুর ২টা পর্যন্ত চলা অভিযানে ঢাকার বিভিন্ন এলাকা থেকে আন্তঃজেলা ডাকাত দলের পাঁচ সদস্যকে গ্রেফতার করা হয়। অভিযুক্তদের কাছ থেকে ডাকাতির সময় ব্যবহৃত অস্ত্র ও পরিহিত পোশাক উদ্ধার করা হয়। তারা সবাই ঘটনায় জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছে।
জানা গেছে, গ্রেফতার হওয়া ডাকাত দলের নেতা মো. কামাল ওরফে সিএনজি কামাল (৪০) এর আগে গত সেপ্টেম্বর মাসে একই এলাকায় একটি ডাকাতির নেতৃত্ব দিয়েছিল, যেখানে তারা স্বর্ণালংকার, নগদ অর্থ এবং একটি বৈধ আগ্নেয়াস্ত্র লুট করে নেয়।
আরও পড়ুন: নিত্যপণ্যের বাজারদর নিয়ে এমপি মান্নানের লিফলেট বিতরণ
এ ঘটনায় শ্রীনগর থানায় মামলা নং ২৩, ২০২৪ সালের ২৭ সেপ্টেম্বর ধারা ৩৯৫/৩৯৭ পেনাল কোড অনুযায়ী মামলা রুজু করা হয়েছে। পলাতক অন্যান্য ডাকাতদের শনাক্ত ও গ্রেফতারের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
এই ঘটনা দেশের সড়ক নিরাপত্তা ও আন্তঃজেলা ডাকাত চক্র নিয়ন্ত্রণে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সাফল্যের একটি বড় দৃষ্টান্ত হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।





