রূপগঞ্জে রমজানের প্রস্তুতি: মসজিদ-মাদ্রাসা সাজানো ও বাজার মনিটরিং দাবি

Sanchoy Biswas
শ্রী দিপু চন্দ্র গোপ, রূপগঞ্জ (নারায়ণগঞ্জ) প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ৭:৫৭ অপরাহ্ন, ১৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৬ | আপডেট: ৪:০০ অপরাহ্ন, ০৫ এপ্রিল ২০২৬
ছবিঃ সংগৃহীত
ছবিঃ সংগৃহীত

পবিত্র মাহে রমজান, যে মাসে মানবজাতির হেদায়েতের জন্য আল্লাহ তায়ালা পবিত্র কুরআন নাজিল করেছেন, যে মাসে রহমত, মাগফিরাত ও নাজাতের ঘোষণা দেওয়া হয়, আর লাইলাতুল কদরের মতো হাজার মাসের চেয়েও শ্রেষ্ঠ রাত রয়েছে, সেই বরকতময় মাসকে স্বাগত জানাতে প্রস্তুত হচ্ছে নারায়ণগঞ্জ জেলার অন্তর্গত রূপগঞ্জ উপজেলা।

রমজানকে ঘিরে ঈমান ও তাকওয়ার পরিবেশ তৈরি করতে উপজেলার সাতটি ইউনিয়ন ও দুটি পৌরসভার মসজিদ ও মাদ্রাসাগুলো পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করে রং ও সাজসজ্জার কাজ চলছে। আল্লাহর ঘরকে সুন্দর ও পরিচ্ছন্ন রাখার মধ্য দিয়ে রোজা, নামাজ, তারাবিহ ও কোরআন তেলাওয়াতে মনোযোগী হওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন মুসল্লিরা।

আরও পড়ুন: বরগুনা সদর উপজেলাকে ‘রেড জোন’ ঘোষণা, তিন শিশুর মৃত্যু

স্থানীয়রা জানান, রাজধানী ঢাকা-সংলগ্ন গুরুত্বপূর্ণ এই উপজেলায় শিল্পকারখানা, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও নানা কর্মসংস্থানের সুযোগ থাকায় এখানে বসবাস করেন কয়েক লাখ মানুষ। তাই রমজানকে কেন্দ্র করে বাজারগুলোতেও ব্যস্ততা বেড়েছে কয়েকগুণ।

ভূলতা, গোলাকান্দাইল, তারাবো, মুড়াপাড়া, কাঞ্চন, ভোলাবো, ইছাপুরা, দেবই ও কায়েতপাড়াসহ বিভিন্ন হাট-বাজারে ইতোমধ্যে ইফতার সামগ্রী, খেজুর, ফলমূল, মুদি পণ্য, টুপি, আতর ও জায়নামাজসহ প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র সাজিয়ে তোলা হয়েছে। অনেক রোজাদার আগেভাগেই নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য কিনে রাখছেন, যাতে রমজানের ইবাদতে সময় ও মনোযোগ নষ্ট না হয়।

আরও পড়ুন: নরসিংদীতে বেড়েছে হামের প্রাদুর্ভাব, জনমনে আতঙ্ক

তবে মুসল্লিরা অভিযোগ করেছেন, প্রতিবছর রমজান এলেই সন্ধ্যার পর চুরি, ছিনতাইসহ নানা অপরাধের আশঙ্কা বেড়ে যায়। এ বছর যেন পবিত্র মাসের শান্ত পরিবেশ নষ্ট না হয়, সেই জন্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর বাড়তি তৎপরতা কামনা করেছেন তারা।

একই সঙ্গে রোজাদাররা অভিযোগ করেছেন, রমজান এলেই একটি অসাধু সিন্ডিকেট নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম বাড়িয়ে দেয়। এতে নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারগুলো চরম ভোগান্তিতে পড়ে। তাই নতুন সরকারের প্রতি তাদের আহ্বান, যেন রমজানের শুরু থেকেই বাজারে কঠোর নজরদারি এবং অসাধু ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়।

রূপগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সবজেল হোসেন বাংলাবাজার পত্রিকাকে বলেন, “রমজান মাসে রোজাদার ও মুসল্লিদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা আমাদের প্রথম অগ্রাধিকার। এই পবিত্র সময়ে চুরি, ছিনতাই ও অন্য কোনো অপরাধ যেন সংঘটিত না হয়, সেজন্য পুলিশি টহল এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও জোরদার করা হবে। আমরা কঠোর অবস্থানে থেকে শান্তিপূর্ণ ইবাদত এবং নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করব।”

অন্যদিকে, রূপগঞ্জ উপজেলা (পূর্বাচল সার্কেল) সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ফরিদ আল সোহান বাংলাবাজার পত্রিকাকে বলেন, “রমজানকে সামনে রেখে উপজেলা প্রশাসন দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ ও অসাধু মজুতদারদের বিরুদ্ধে কঠোর নজরদারি জোরদার করেছে। এছাড়া কৃত্রিম সংকট এড়াতে বাজার মনিটরিং ও সুষ্ঠু সরবরাহ নিশ্চিত করার জন্য প্রশাসন মাঠ পর্যায়ে কাজ করছে। আমরা চাই, রমজান মাসে প্রতিটি রোজাদার শান্তিপূর্ণভাবে ইবাদত করতে পারুক এবং ন্যায্যমূল্যের বাজার সুবিধা পেতে সক্ষম হোক।”

রোজাদার মুসল্লিদের প্রত্যাশা এই রমজানে যেন ন্যায্যমূল্যের বাজার, নিরাপদ পরিবেশ ও শান্তিপূর্ণ ইবাদতের সুযোগ নিশ্চিত হয়। আল্লাহ তায়ালার সন্তুষ্টি অর্জনের এই মাসে ব্যবসা-বাণিজ্য ও প্রশাসনিক কার্যক্রমেও যেন ন্যায় ও আমানতের চর্চা প্রতিফলিত হয়, এটাই রূপগঞ্জবাসীর সম্মিলিত কামনা।