কেআইবির তলবি সাধারণ সভা পণ্ড, সভাপতিত্ব নিয়ে দ্বন্দ্বে হট্টগোল
কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশন বাংলাদেশ (কেআইবি)-এর বর্তমান প্রশাসকের অপসারণ এবং অন্তর্বর্তীকালীন কমিটি গঠনের লক্ষ্যে ডাকা তলবি সাধারণ সভা পণ্ড হয়ে গেছে। শনিবার (১১ এপ্রিল) দুপুরে রাজধানীর কৃষিবিদ ইনস্টিটিউট প্রাঙ্গণে এ ঘটনা ঘটে।
সভা সূত্রে জানা যায়, বেলা ১২টায় সভার কার্যক্রম শুরু হলে সভাপতিত্ব নিয়ে শুরু হয় তীব্র বিতর্ক। উপস্থিত সিনিয়র সদস্যরা সাবেক সভাপতি ও জ্যেষ্ঠ কৃষিবিদ ইব্রাহিম খলিলের নাম প্রস্তাব করেন। অন্যদিকে একাংশ সরকারি কর্ম কমিশনের (পিএসসি) সদস্য কৃষিবিদ গোলাম হাফিজ কেনেডির নাম প্রস্তাব করে।
আরও পড়ুন: মানিকনগর আইডিয়াল বিএম কলেজে ফ্রি কম্পিউটার প্রশিক্ষণ সেন্টার উদ্বোধন
এ নিয়ে সমঝোতা না হওয়ায় পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। এগ্রিকালচারালিস্ট অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (এ্যাব)-এর সদস্য সচিব শাহাদত হোসেন বিপ্লব জানান, সভাপতির বিষয়ে সিনিয়র কৃষিবিদরা সিদ্ধান্ত দিতে ব্যর্থ হলে এ্যাবের নেতারা সিদ্ধান্ত দেবেন। তবে এ প্রস্তাবে আপত্তি জানিয়ে শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণা কর্মকর্তা ও এ্যাবের যুগ্ম আহ্বায়ক শফিকুল ইসলাম শফিক বলেন, এটি কোনো দলীয় অনুষ্ঠান নয়, তাই এ্যাবের সিদ্ধান্ত তিনি মেনে নেবেন না।
পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে উঠলে সভায় উপস্থিত কয়েকজন কৃষিবিদের বিরুদ্ধে সিনিয়র সদস্যদের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগ ওঠে। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, শফিকুল ইসলাম শফিক, লুৎফুর রহমান মৃদুল, জিবরাইল শরীফ, আহসান হাবিব রানু ও শফিকুল ইসলাম নোবেলসহ কয়েকজন সিনিয়রদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার করেন, যা উপস্থিত কৃষিবিদদের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি করে।
আরও পড়ুন: অনশনরত শিক্ষার্থীদেরকে দেখতে গেলেন ঢাবি উপাচার্য
কৃষিবিদ শাহাদাত হোসেন চঞ্চল অভিযোগ করেন, বর্তমান প্রশাসকের অনিয়মের সুবিধাভোগীরা পরিকল্পিতভাবে বহিরাগতদের এনে সভাটি পণ্ড করেছে। তাদের উদ্দেশ্য কেআইবিতে স্বচ্ছতা প্রতিষ্ঠা বাধাগ্রস্ত করা।
অন্যদিকে এ্যাবের সদস্য সচিব শাহাদত হোসেন বিপ্লব বলেন, বর্তমান প্রশাসক গত ১৩ মাসে প্রায় ৩৭ লাখ টাকা সম্মানী নিয়েছেন এবং অবৈধ নিয়োগসহ নানা অনিয়মে জড়িত। এসব কারণে তাকে অপসারণ করে প্রকৃত কৃষিবিদদের হাতে দায়িত্ব দিতে এই সভা ডাকা হয়েছিল। তবে একটি গোষ্ঠীর হট্টগোলে সভাটি ভেস্তে যায় এবং সিনিয়র সদস্যরা লাঞ্ছিত হন।
উদ্ভূত পরিস্থিতিতে সভাটি সাময়িকভাবে স্থগিত ঘোষণা করা হয়েছে। পরবর্তীতে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে আলোচনা করে নতুন তারিখ নির্ধারণ করা হবে বলে জানানো হয়েছে।





