তেল নিয়ে নৈরাজ্য
পাম্প ঘিরে চরম অস্থিরতা ও বাসে আগুন, সংঘর্ষে নিহত ১
মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের অভাবে তেলের দাম বাড়ার আশঙ্কায় রাজধানীসহ সারাদেশে তেলের পাম্প ঘিরে চরম অস্থিরতা চলছে। প্রতিটা পাম্প ১ কিলোমিটার ঘিরে যানবাহনের বাইকাররা অবস্থান নিয়েছে।
ঝিনাইদহ শহরে তেল পাম্পের কর্মচারীদের পিটুনিতে এক যুবক নিহতের ঘটনাকে কেন্দ্র করে ব্যাপক সহিংসতা হয়েছে। শনিবার (৭ মার্চ) দিবাগত গভীর রাতে বিক্ষুব্ধ জনতা শহরের একটি ফিলিং স্টেশনে ভাঙচুর চালিয়েছে এবং কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনালে দাঁড়িয়ে থাকা তিনটি বাসে অগ্নিসংযোগ করেছে।
আরও পড়ুন: রায়পুরে উন্নয়ন ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে খাদ্যসামগ্রী বিতরণ
নিহত যুবকের নাম নিরব হোসেন (২৫)। তিনি কালীগঞ্জ উপজেলার বাদুরগাছা গ্রামের আলিমুর বিশ্বাসের ছেলে। সে ঝিনাইদহ শহরের বকুলতলা এলাকায় একটি ভাড়া বাসায় বসবাস করতেন। এই ঘটনায় তাৎক্ষণিকভাবে তিনজনকে আটক করেছে র্যাব-৬।
শনিবার রাত আটটার দিকে শহরের কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনাল এলাকার ‘তাজ ফিলিং স্টেশনে’ তেল নেয়াকে কেন্দ্র করে কর্মচারীদের সঙ্গে নিরব নামে এক যুবকের কথা কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে পাম্প কর্মচারীদের পিটুনিতে নিরব গুরুতর আহত হন এবং পরবর্তীতে মারা যান। নিহত নিরব ‘বৈষম্যবিরোধী আন্দোলন কমিটি’র একজন সক্রিয় সদস্য ছিলেন বলে জানা গেছে। এই হত্যাকাণ্ডের খবর ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয় জনতা ও আন্দোলনকারীরা বিক্ষোভে ফেটে পড়ে।হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদে রাত ১টার দিকে বিক্ষুব্ধ জনতা শহরের আরাপপুর এলাকায় অবস্থিত ‘সৃজনী ফিলিং স্টেশনে’ হামলা চালিয়ে ব্যাপক ভাঙচুর করে। এর কিছুক্ষণ পর রাত ৩টার দিকে কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনালে দাঁড়িয়ে থাকা দূরপাল্লার বাসে আগুন লাগিয়ে দেয় দুষ্কৃতকারীরা। আগুনে রয়েল পরিবহন, জে লাইন ও গোল্ডেন লাইন নামের তিনটি বাসের অধিকাংশ অংশ পুড়ে ছাই হয়ে গেছে।
আরও পড়ুন: লক্ষ্মীপুরের রায়পুরে যুবদল নেতা হত্যার প্রধান আসামি আরমান গ্রেপ্তার
ঝিনাইদহ ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা জানান, রাত ৩টার দিকে অগ্নিকাণ্ডের খবর পেয়ে তারা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছান। প্রায় আধা ঘণ্টার প্রচেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে এলেও ততক্ষণে বাস তিনটি ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হয়। তবে গভীর রাতে বাসগুলো খালি থাকায় কোনও হতাহতের ঘটনা ঘটেনি। ফায়ার সার্ভিসের এক কর্মকর্তা জানান, তদন্ত শেষে ক্ষয়ক্ষতির প্রকৃত পরিমাণ এবং জড়িতদের শনাক্ত করা সম্ভব হবে।
ঝিনাইদহ র্যাব-৬ এর কমান্ডার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মেহেদী ইমরান সিদ্দিকী জানায়, ‘শহরের তাজ ফিলিং স্টেশনে রাতে মোটরসাইকেলে তেল নিতে যায় নিরব হোসেন। তখন পাম্প শ্রমিকরা বলে তেল নেই পাম্প বন্ধ আছে। পরে অন্য পাম্পে গিয়ে তেল না পেয়ে তারা ফেরার সময় দেখে ওই পাম্পে বোতলে তেল দেয়া হচ্ছে। তখন তারা শ্রমিকদের বলে আপনারা আমাদের তেল দিলেন না, এখন আবার বিক্রি করছেন। এ নিয়ে তাদের মধ্যে কথা কাটাকাটির এক পর্যায়ে পাম্প শ্রমিকরা নিরব হোসেনকে মারপিট করে। তখন সে বাসায় ফিরে গিয়ে অসুস্থ বোধ করলে হাসপাতালে নিলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।’
ঝিনাইদহ সদর হাসপাতালের কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. সব্যসাচী পাল সুমন বলেন, ‘নিহতের শরীরে কয়েকটি আঘাতের ক্ষত আছে। হতে পারে ওই আঘাতে অভ্যন্তরীণ কোনও কারণে তার মৃত্যু হয়েছে।’





