মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর: রাজনীতি, সংগ্রাম ও নেতৃত্বের দীর্ঘ পথচলা
বাংলাদেশের রাজনীতিতে এক সুপরিচিত নাম মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। দীর্ঘ রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা, ত্যাগ ও নেতৃত্বগুণের মাধ্যমে তিনি আজ দেশের অন্যতম প্রভাবশালী রাজনীতিবিদ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত। বর্তমানে তিনি বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-এর মহাসচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।
২০১৬ সালের ৩০ মার্চ বিএনপির মহাসচিবের দায়িত্ব গ্রহণ করেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। এর আগে ২০১১ সালের ২০ মার্চ থেকে টানা পাঁচ বছর তিনি দলের ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ২০০৯ সালের ৮ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত দলের পঞ্চম জাতীয় কাউন্সিলে তাকে সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব হিসেবে মনোনীত করা হয়।
আরও পড়ুন: ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীদের স্বনির্ভর করে তোলা হবে: মির্জা ফখরুল
তার সংসদীয় রাজনৈতিক জীবনের সূচনা হয় ২০০১ সালে। ওই বছর অনুষ্ঠিত অষ্টম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঠাকুরগাঁও-১ আসন থেকে বিএনপির মনোনীত প্রার্থী হিসেবে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। পরবর্তীতে ২০০১ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত কৃষি মন্ত্রণালয় এবং বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ২০০৮ সালের নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনেও তিনি অংশগ্রহণ করেন।
মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের রাজনৈতিক জীবনের সূচনা ঘটে ১৯৬০-এর দশকে, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের ছাত্র থাকাকালে। সে সময় তিনি পূর্ব পাকিস্তান ছাত্র ইউনিয়নে যোগ দেন এবং সংগঠনের এসএম হল ইউনিটের মহাসচিব নির্বাচিত হন। ১৯৬৯ সালের গণঅভ্যুত্থানে সক্রিয় ভূমিকা পালন করতে গিয়ে তিনি গ্রেপ্তার হয়ে কারাবরণ করেন।
আরও পড়ুন: বন্ধের হুমকিতে ইস্টার্ন রিফাইনারি
১৯৮৬ সালে সরকারি চাকরি থেকে পদত্যাগ করে তিনি পুরোপুরি রাজনীতিতে যুক্ত হন। ১৯৮৮ সালে নিরপেক্ষ প্রার্থী হিসেবে ঠাকুরগাঁও পৌরসভার চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন। ১৯৯০-এর দশকে এরশাদবিরোধী আন্দোলনের সময় তিনি বিএনপিতে যোগ দেন এবং ১৯৯২ সালে ঠাকুরগাঁও জেলা বিএনপির সভাপতি নির্বাচিত হন।
১৯৪৮ সালের ২৬ জানুয়ারি ঠাকুরগাঁও জেলায় জন্মগ্রহণ করেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অর্থনীতিতে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। কর্মজীবনের শুরুতে ১৯৭২ সালে ঢাকা কলেজে বিসিএস (শিক্ষা ক্যাডার) কর্মকর্তা হিসেবে প্রভাষক হিসেবে যোগ দেন।
পরবর্তীতে বিভিন্ন সরকারি কলেজে শিক্ষকতা করেন। এছাড়া পরিদর্শন ও নিরীক্ষা অধিদপ্তরে উপ-পরিচালক এবং ইউনেস্কো জাতীয় কমিশনেও দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৭৯ সালে রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের প্রশাসনে তৎকালীন উপ-প্রধানমন্ত্রী এস. এ. বারীর ব্যক্তিগত সচিব হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন।
ব্যক্তিগত জীবনে তিনি রাহাত আরা বেগমের সঙ্গে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন। তাদের দুই কন্যা—মির্জা শামারুহ ও মির্জা সাফারুহ। বড় মেয়ে শামারুহ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক এবং বর্তমানে অস্ট্রেলিয়ায় পোস্ট-ডক্টরাল ফেলো হিসেবে কর্মরত। ছোট মেয়ে সাফারুহ ঢাকার একটি বিদ্যালয়ে শিক্ষকতা করছেন।
পারিবারিকভাবেও তিনি একটি রাজনৈতিক ঐতিহ্যের উত্তরসূরি। তার বাবা মির্জা রুহুল আমিন ছিলেন একজন বিশিষ্ট আইনজীবী ও রাজনীতিবিদ এবং সাবেক কৃষিমন্ত্রী। তার চাচা মির্জা গোলাম হাফিজ ভূমিমন্ত্রী, আইনমন্ত্রী এবং জাতীয় সংসদের স্পিকার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। আরেক চাচা উইং কমান্ডার এস.আর. মির্জা মুক্তিযুদ্ধকালীন মুজিবনগর সরকারের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে নিয়োজিত ছিলেন।
দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে নানা চড়াই-উতরাই পেরিয়ে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর আজও সক্রিয়ভাবে দেশের রাজনীতিতে ভূমিকা রেখে চলেছেন। তাঁর নেতৃত্ব, অভিজ্ঞতা ও রাজনৈতিক প্রজ্ঞা তাকে দেশের অন্যতম আলোচিত রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বে পরিণত করেছে।





