জাতীয়তাবাদী রাজনীতির অভ্যুদয় সূচনা করেছিল সিপাহি-জনতার বিপ্লব : তারেক রহমান

Any Akter
বাংলাবাজার ডেস্ক
প্রকাশিত: ৩:০১ অপরাহ্ন, ০৬ নভেম্বর ২০২৫ | আপডেট: ৩:০১ অপরাহ্ন, ০৬ নভেম্বর ২০২৫
ছবিঃ সংগৃহীত
ছবিঃ সংগৃহীত

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-এর ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, বাংলাদেশের ইতিহাসে ১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বরের সিপাহি-জনতার বিপ্লব কেবল একটি মোড় পরিবর্তনকারী ঘটনা নয়, বরং এটি আধিপত্যবাদবিরোধী জাতীয়তাবাদী রাজনীতির অভ্যুদয়ের সূচনা করেছিল। বৃহস্পতিবার (৬ নভেম্বর) ‘জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস’ উপলক্ষে দেওয়া এক বাণীতে তিনি দেশবাসীকে আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানান। বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী স্বাক্ষরিত ওই বাণী গণমাধ্যমে প্রকাশ করা হয়।

তারেক রহমান বলেন, স্বাধীনতার পরবর্তী সময়ে ক্ষমতাসীন গোষ্ঠী নিজেদের স্বার্থে দেশকে আধিপত্যবাদের ছত্রছায়ায় নিয়ে যায় এবং একদলীয় বাকশাল প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে গণতন্ত্রকে হত্যা করে। বাকশালী সরকার ফ্যাসিবাদী পন্থায় মানুষের মৌলিক অধিকার কেড়ে নিয়েছিল। এই চরম সংকটকালে ৩ নভেম্বর কুচক্রীরা স্বাধীনতার ঘোষক শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানকে সপরিবারে বন্দি করে। কিন্তু ৭ নভেম্বর সৈনিক ও জনতার অভ্যুত্থানে তিনি মুক্ত হন এবং জাতি নতুন করে গণতন্ত্রের পথে যাত্রা শুরু করে।

আরও পড়ুন: বাংলাদেশ নয় ‘সবার আগে যুক্তরাষ্ট্র’ নীতিতে সরকার চলছে: আনু মোহাম্মদ

বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান আরও বলেন, ৭ নভেম্বরের ঐতিহাসিক পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের নেতৃত্বে গণতন্ত্র, বাকস্বাধীনতা ও মতপ্রকাশের অধিকার পুনঃপ্রতিষ্ঠিত হয়।

তিনি অভিযোগ করেন, আধিপত্যবাদী শক্তির দেশীয় দোসররা নিজেদের স্বার্থে ১৯৮১ সালে রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানকে পৈশাচিকভাবে হত্যা করে। বর্তমান আওয়ামী ফ্যাসিস্ট সরকার প্রায় ১৬ বছর ধরে রাষ্ট্রক্ষমতা আঁকড়ে ধরে গণতন্ত্রকে ধ্বংস করেছে। তাদের নতজানু নীতির কারণে দেশের সার্বভৌমত্ব আজ দুর্বল। গুম, খুন, বিচারবহির্ভূত হত্যা, দুর্নীতি ও অপশাসনের ভয়াল রাজত্ব কায়েম করেছে তারা।

আরও পড়ুন: সংরক্ষিত নারী আসনে নুসরাত তাবাসসুমের মনোনয়ন বৈধ ঘোষণা

তিনি আরও অভিযোগ করেন, গণতন্ত্রের প্রতীক দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে অন্যায়ভাবে বন্দি করে রাখা হয়েছে। লড়াকু নেতাকর্মীদের ওপর চলছে নির্মম দমননীতি।

তারেক রহমান বলেন, ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার আত্মত্যাগের মধ্য দিয়ে ফ্যাসিস্টদের দেশত্যাগের যে সূচনা হয়েছে, সেটিই গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের পথকে উন্মুক্ত করেছে। এখন প্রয়োজন অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন, মানবাধিকার রক্ষা এবং সমাজে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা।

বাণীর শেষাংশে তারেক রহমান আহ্বান জানান ৭ নভেম্বরের চেতনায় অনুপ্রাণিত হয়ে সব জাতীয়তাবাদী শক্তিকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। জাতীয় স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষা আজ সময়ের সবচেয়ে বড় দাবি।