বাংলাদেশের বিশ্বকাপ বয়কট ভারতের ২০৩৬ অলিম্পিক বিডে প্রভাব ফেলতে পারে: গার্ডিয়ান

Any Akter
ক্রীড়া ডেস্ক
প্রকাশিত: ১:৩৩ অপরাহ্ন, ০১ ফেব্রুয়ারী ২০২৬ | আপডেট: ৩:০৬ অপরাহ্ন, ০১ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
ছবিঃ সংগৃহীত
ছবিঃ সংগৃহীত

বাংলাদেশ পুরুষদের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ থেকে সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত ভারতের ২০৩৬ অলিম্পিক আয়োজনের বিডে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। খেলাধুলায় রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ নিয়ে আন্তর্জাতিক অলিম্পিক কমিটির (আইওসি) উদ্বেগ বাড়ছে—এমন তথ্য জানিয়েছে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম গার্ডিয়ান।

আগামী মাসে অনুষ্ঠিতব্য টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ থেকে বাংলাদেশ গত সপ্তাহে নিজেদের প্রত্যাহার করে নেয়। বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) তাদের গ্রুপের ম্যাচগুলো ভারত থেকে সরিয়ে সহ-আয়োজক শ্রীলঙ্কায় নেওয়ার অনুরোধ জানালেও আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল (আইসিসি) তা প্রত্যাখ্যান করে। এর পেছনে দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক টানাপোড়েন বড় কারণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

আরও পড়ুন: ভুটানকে ১২ গোল দিয়ে উড়িয়ে দিল বাংলার মেয়েরা

এই উত্তেজনা আরও বাড়ে যখন আইপিএলের কলকাতা নাইট রাইডার্স দল থেকে বাংলাদেশের পেসার মুস্তাফিজুর রহমানকে বাদ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। গত এক মাসে দুই দেশের সম্পর্ক আরও অবনতি হয়। উত্তর বাংলাদেশে এক হিন্দু ব্যক্তির মৃত্যুকে কেন্দ্র করে সহিংসতা ও সড়ক সংঘর্ষ পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তোলে।

কলকাতা কর্তৃপক্ষ দাবি করেছে, তারা ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড বিসিসিআইয়ের নির্দেশনা মেনেই এ সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এদিকে পাকিস্তানও বাংলাদেশের সঙ্গে সংহতি প্রকাশ করে বিশ্বকাপ বয়কটের কথা ভাবছে বলে খবর পাওয়া গেছে। এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আসতে পারে এই সপ্তাহান্তে।

আরও পড়ুন: ভারতে বিশ্বকাপ আয়োজনে অনিশ্চয়তা, যা জানালো বিসিসিআই

যদিও বাংলাদেশের ম্যাচ ভারতে রাখার বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আইসিসি নিয়েছে, তবে বিসিসিআই আইসিসির ওপর প্রভাব খাটিয়ে ভেন্যু পরিবর্তনের অনুমতি না দিতে ভূমিকা রেখেছে বলে অভিযোগ উঠেছে। আইসিসি নিজেদের স্বাধীন সংস্থা দাবি করলেও অতীতে ভারতের অনুকূলে সিদ্ধান্ত নেওয়ার নজির রয়েছে। উদাহরণ হিসেবে ২০২৪ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে সম্প্রচার ও আর্থিক কারণ দেখিয়ে ভারতকে গায়ানায় সেমিফাইনাল খেলার নিশ্চয়তা দেওয়া হয়েছিল।

আইসিসিতে বিসিসিআইয়ের প্রভাব অত্যন্ত শক্তিশালী। সংস্থাটির চেয়ারম্যান জয় শাহ আগে বিসিসিআইয়ের সচিব ছিলেন এবং তার বাবা অমিত শাহ ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির মন্ত্রিসভায় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। এছাড়া আইসিসির প্রধান নির্বাহী সঞ্জোগ গুপ্ত আগে ভারতের জিওস্টার মিডিয়া গ্রুপে শীর্ষ পদে ছিলেন, যারা আইসিসি ইভেন্টগুলোর একচেটিয়া সম্প্রচার স্বত্বধারী।

এই রাজনৈতিক বিতর্ক এমন সময়ে সামনে এলো, যখন ভারত ২০৩০ কমনওয়েলথ গেমস আয়োজন নিশ্চিত করার পর আহমেদাবাদে ২০৩৬ অলিম্পিক আয়োজনের জন্য বিড করছে। এই দৌড়ে কাতারকে ভারতের সবচেয়ে বড় প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে দেখা হচ্ছে।

আইসিসির তুলনায় খেলাধুলায় রাজনৈতিক হস্তক্ষেপের বিষয়ে আইওসির অবস্থান অনেক কঠোর। একটি সূত্র জানিয়েছে, অন্য দেশগুলো বয়কট করতে পারে—এমন আশঙ্কা থাকলে ভারতকে অলিম্পিক আয়োজনের দায়িত্ব দেওয়া হবে না। অলিম্পিক চার্টার অনুযায়ী, ক্রীড়া সংস্থাগুলোকে রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত থাকতে হয় এবং গেমসে রাজনৈতিক বা ধর্মীয় মত প্রকাশ কঠোরভাবে নিষিদ্ধ।

আইওসির ‘জিরো টলারেন্স’ নীতির উদাহরণ হিসেবে সম্প্রতি ইন্দোনেশিয়ার ঘটনা তুলে ধরা হচ্ছে। গত অক্টোবরে জাকার্তায় বিশ্ব জিমন্যাস্টিকস চ্যাম্পিয়নশিপে ইসরায়েলি দলকে ভিসা না দেওয়ায় আইওসি ভবিষ্যৎ অলিম্পিক আয়োজন নিয়ে ইন্দোনেশিয়ার সঙ্গে সংলাপ স্থগিত করে। ফলে ২০৩৬ অলিম্পিকের দৌড় থেকেও ছিটকে পড়ে দেশটি।

উল্লেখ্য, আন্তর্জাতিক ক্রিকেট রাজনীতি এখন অলিম্পিক আয়োজনের ক্ষেত্রেও বড় ভূমিকা রাখতে পারে। ১৯০০ সালের পর প্রথমবার ক্রিকেট ২০২৮ লস অ্যাঞ্জেলেস অলিম্পিকে ফিরছে এবং ২০৩২ ব্রিসবেন অলিম্পিকেও থাকছে। ভারতীয় বাজারকে আকৃষ্ট করতেই আইওসি ক্রিকেট অন্তর্ভুক্ত করেছে, তবে যেকোনো মূল্যে নয়।

আইওসি সূত্রের মতে, বিশ্বাসযোগ্য অলিম্পিক আয়োজক হিসেবে বিবেচিত হতে হলে ভারতকে পাকিস্তান ও বাংলাদেশের সঙ্গে সম্পর্ক উন্নয়নের সুস্পষ্ট অগ্রগতি দেখাতে হবে।