জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার ফিরিয়ে দিলেন নিয়ামুল মুক্তা, ‘রক্তজবা’ নিয়ে বিতর্ক
২০২৩ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত বাংলাদেশের চলচ্চিত্রগুলোর জন্য ঘোষিত জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারের তালিকা প্রকাশের পরপরই তথ্যগত ভুলের অভিযোগ সামনে এসেছে। ‘রক্তজবা’ চলচ্চিত্রের জন্য শ্রেষ্ঠ চিত্রনাট্যকার হিসেবে নাম ঘোষণার পর ওই পুরস্কার গ্রহণ করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন চলচ্চিত্রটির পরিচালক নিয়ামুল মুক্তা।
পুরস্কার ঘোষণার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে নিয়ামুল মুক্তা জানান, তিনি ‘রক্তজবা’ চলচ্চিত্রের পরিচালক হলেও এর চিত্রনাট্য তিনি লেখেননি। তার প্রশ্ন, চিত্রনাট্য না লিখেও কীভাবে তাকে শ্রেষ্ঠ চিত্রনাট্যকার হিসেবে ঘোষণা করা হলো, তা তার বোধগম্য নয়।
আরও পড়ুন: আমির খানকে হত্যার হুমকি, তদন্তে মুম্বাই পুলিশ
নিয়ামুল মুক্তার ভাষ্য অনুযায়ী, ‘রক্তজবা’ চলচ্চিত্রের কাহিনি ও চিত্রনাট্য লিখেছেন মুহাম্মাদ তাসনীমুল হাসান তাজ। এ অবস্থায় তিনি জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার ২০২৩-এর শ্রেষ্ঠ চিত্রনাট্যকারের পুরস্কার গ্রহণ করছেন না এবং প্রকৃত চিত্রনাট্যকারের হাতেই এ পুরস্কার তুলে দেওয়ার দাবি জানান।
চলচ্চিত্রটির মুক্তি নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন পরিচালক। নিজের পোস্টে তিনি উল্লেখ করেন, তিনি নিজে কখনো সিনেমা হলে গিয়ে ‘রক্তজবা’ চলচ্চিত্রটি দেখতে পারেননি এবং দর্শকদের জন্য এটি আদৌ সিনেমা হলে প্রদর্শিত হয়েছে কি না, সে বিষয়েও তিনি নিশ্চিত নন।
আরও পড়ুন: জুনিয়র এনটিআরকে নিয়ে ভক্তদের জন্য দুঃসংবাদ!
নিয়ামুল মুক্তার প্রশ্ন, সিনেমা হলে মুক্তি না পাওয়া কোনো চলচ্চিত্র জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারের জন্য বিবেচিত হতে পারে কি না। নাকি কেবল পুরস্কারের যোগ্যতা অর্জনের উদ্দেশ্যে নামমাত্র কোনো অখ্যাত হলে সীমিত পরিসরে প্রদর্শন দেখানো হয়েছে—সে বিষয়েও তার কাছে কোনো স্পষ্ট তথ্য নেই।
চিত্রনাট্যকার নির্ধারণে এমন ভুল এবং চলচ্চিত্র মুক্তির শর্ত যথাযথভাবে যাচাই না হওয়ায় জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারের যাচাই-বাছাই প্রক্রিয়া নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। সংশ্লিষ্টদের মতে, একজন নির্মাতাকে এমন একটি বিভাগে পুরস্কার দেওয়া, যেখানে তিনি সংশ্লিষ্ট নন, তা গুরুতর অবহেলারই উদাহরণ।
এ বিষয়ে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার কমিটির পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি।





